
X
নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যেসব অনিয়ম হয়েছে, তাতে শঙ্কা প্রকাশ করে ভোটের ফল নিশ্চিত হওয়ার আগে কর্মী-সমর্থকদের কেন্দ্র না ছাড়তে সতর্ক করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা অফিসে বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। একইসঙ্গে পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে নির্বাচনে জয়ের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ এর সঙ্গে সংশ্লষ্ট সবাইকে বিএনপির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে সহিংসতার কারণে অনেকেই আহত হয়েছেন, অনেকেই নানা কারণে দুঃখজনকভাবে নিহতও হয়েছেন; তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।
“আমরা দেখেছি নির্বাচনকে বিতর্কিত করবার জন্য গতকাল (বুধবার) রাত থেকেই বিভিন্ন জায়গায় যে সহিংসতা, কারচুপি ও কালো টাকার মহোৎসব হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছে। অনেক জায়গায় এ ধরনের অপপ্রয়াসকে রুখে দিয়েছে।”
“বিএনপির সঙ্গে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের যে দৃশ্যমান বিশাল পার্থক্য রয়েছে, সেটিকে প্রতিহত করাই ছিল গতকাল রাত থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মূল উদ্দেশ্য। সেজন্য ভোটারদেরকে হুমকি প্রদানের মাধ্যমে নিরুৎসাহীত করে ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখার একটি অপচেষ্টা করা হয়। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাগুলো যদি না ঘটত, হয়তো ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি আরও বেশি হতে পারত।”
“আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, অনেক জায়গায় আজকে আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট পাওয়া গিয়েছে, জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মৃত মানুষের ভোট দেওয়ার অভিযোগ যেমন এসেছে, ঠিক একইভাবে নিজেদের ভোট দিতে পারেননি বলেও অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন। যা প্রমাণ করে, ফ্যাসিবাদী আমলের মতোই একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার অপসংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হলো।”
“স্থানীয় ভুয়া পর্যবেক্ষক তৈরির মাধ্যমে সেই বিশেষ দল এক ধরনের মব তৈরিরও চেষ্টা করেছে। যার মাধ্যমে ভোটার উপস্থিতিতে এক ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে। সেটা অনেক আগে থেকেই আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছিলাম। নির্বাচন কমিশন ক্ষেত্র বিশেষে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে সেটি আরও আন্তরিক ও সামগ্রিক হলে আরও যথাযথভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি রোধ করা যেত।”
“চিহ্নিত রাজনৈতিক দলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে, যাতে ভোটারদের মনে ভোট প্রদানের বিষয়ে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়। বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির বিজয় অনিবার্য ও নিরঙ্কুশ, সেটিকেই স্তিমিত করার কোনো অপপ্রয়াসই সফল হবে না বলেই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
“দেশের জনগণ বিশ্বাস করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে এবং ভোট গণনা সঠিকভাবে পরিপালন করা গেলে, ইনশাল্লাহ ধানের শীষের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।”