প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম (ভিজিট : ৭৬)

X
সাতক্ষীরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা জুড়ে বড় জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হারিয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল নিশ্চিত করেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ। ১৬৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট পান, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। এভাবে ইজ্জত উল্লাহ ২৩ হাজার ৭৭৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ওই আসনের গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪০৪ ও না ভোট ১ লাখ ২১ হাজার ২৫৬; ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৫.৬৪ শতাংশ।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। ১৮১টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট পেয়েছেন, যেখানে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৩ ভোট। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের জয় ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ ভোট হয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮২৮ ও না ভোট ৮৬ হাজার ৬১৯, ভোটার উপস্থিতি ৭৩.৭৯ শতাংশ।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের মুহাম্মদ রবিউল বাসার। ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ ভোট। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট। রবিউল বাসারের জয় ব্যবধান ৭৮ হাজার ৮৪৪ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৫ ও না ভোট ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৩, ভোটার উপস্থিতি ৭০.৯৯ শতাংশ।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পান, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৬ ভোট। এভাবে গাজী নজরুল ইসলাম ২১ হাজার ৪৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। গণভোটে হ্যাঁ ভোট হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৪১ ও না ভোট ৬০ হাজার ৭৭৯, ভোটার উপস্থিতি ৬৭.৭৬ শতাংশ।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছেন।