
X
টানা দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের নায়ক মুজারাবানি-
মাঠে নামার আগেই বড় ধাক্কা খেল জিম্বাবুয়ে। চোটের কারণে ছিটকে যান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর। তাকে ছাড়াই মাঠে নেমে দারুণ পারফর্ম করে দলটি। ব্রায়ান বেনেটের নেতৃত্ব ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। এরপর ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে তারা।
কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুক্রবার টি২০ বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে তারা। জবাবে ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। এদিনের এই জয়ের পরে জিম্বাবুয়ের সামনে এখন সুপার এইটের হাতছানি। পরের দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা ও আয়ারল্যান্ড।
টি২০ বিশ্বকাপের আগে দুই দলের প্রথম মোকাবেলা হয়েছিল ২০০৭ সালের প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে। সেই আসরেও অজিদের হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। সেই ধারায় এবার আবার তাদের হারিয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল দলটি। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের মূল নায়ক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট, যিনি ৫৬ বলে অপরাজিত ৬৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনে সাজানো এই ইনিংসে তিনি শূন্যে ঝুঁকি কম নিয়ে মাটিতেই শট খেলেছেন বেশি এবং সাতবার বল পাঠিয়েছেন সীমানার বাইরে। এটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যানের দশম অর্ধশতক।
বেনেট শুরুতেই ৬১ রানের জুটি গড়েন তাদিওয়ানাশে মারুমানির সঙ্গে। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে রায়ান বার্লের সঙ্গে ৭০ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের ভিত এনে দেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের জন্য যা রেকর্ড জুটি। জবাবে শুরুতেই ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। নতুন বলে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স। তাদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২৯ রানে হারায় ৪ উইকেট। পুরো ম্যাচজুড়েই দ্বিতীয় র্যাঙ্কিংধারী দলটির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ১১তম র্যাঙ্কিংয়ের জিম্বাবুয়ে।
মুজারাবানি ছিলেন বোলিংয়ের সেরা তারকা, ৪ উইকেট নিয়ে শেষ করেন মাত্র ১৭ রান দিয়ে। এক সময় অবশ্য ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশ। পঞ্চম উইকেটে তারা যোগ করেন ৭৭ রান। কিন্তু ম্যাক্সওয়েলকে ৩১ রানে পার্ট-টাইম লেগ স্পিনার বার্ল বোল্ড করলে সেই আশা ভেঙে যায়। এরপর ১০৬-৪ থেকে ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার দুর্দশা আরও বাড়ায় চোট সমস্যা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ এই ম্যাচে ছিলেন না; আগেই ছিটকে গেছেন পেস তারকা প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড। ম্যাচ চলাকালে হাতে আঘাত পান অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস, রিটার্ন ক্যাচ নিতে গিয়ে বাঁ হাতে বল লাগলে ব্যথায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। পরে ব্যাট করতে নামলেও করেন মাত্র ৬ রান।
দলে ফেরেন পাওয়ার হিটার টিম ডেভিড, তবে প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি। বিগ ব্যাশ লিগে পাওয়া হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে প্রথম ম্যাচেই তিনি দুই বলে শূন্য রান করে আউট হন। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামে দেখা যায় উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। জিম্বাবুয়ের জার্সি পরা সমর্থকেরা ঐতিহ্যবাহী নৃত্যে বিজয় উদ্যাপন করেন, যেন অবিশ্বাস্য এক জয়কে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আনন্দ।
গ্রুপ পর্বে এর আগে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে, আর আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে সামনে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ বাকি অস্ট্রেলিয়ার। আরেকটি হার হলে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিতে হতে পারে গ্রুপ পর্ব থেকেই।
ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া ব্রেন্ডন টেইলর ছিলেন ডাগআউটে। ২০০৭ বিশ্বকাপে জয়ের ম্যাচে তিনি ছিলেন ম্যাচ-সেরা। এবারও দেশে ফেরার আগে দারুণ এক সুখস্মৃতি সঙ্গী হলো তার।
জিম্বাবুয়ের সামনে এখন সুপার এইটের হাতছানি। পরের দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা ও আয়ারল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৬৯/২ (বেনেট ৬৪, মারুমানি ৩৫, বার্ল ৩৫, রাজা ২৫*; ডোয়ার্শিস ৪-০-৪০-০, স্টয়নিস ২.৫-০-১৭-১, ম্যাক্সওয়েল ১-০-১৪-০, কুনেমান ৩-০-২৪-০, এলিস ৪-০-৩৪-০, জ্যাম্পা ৪-০-৩১-০, গ্রিন ১.১-০-৬-১)।
অস্ট্রেলিয়া : ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ (ইংলিস ৮, হেড ১৭, গ্রিন ০, ডেভিড ০, ম্যাক্সওয়েল ৩১, রেনশ ৬৫, স্টয়নিস ৬, ডোয়ার্শিস ৬, এলিস ৭*, জ্যাম্পা ২, কুনেমান ০; রাজা ২-০-১৭-০, মুজারাবানি ৪-০-১৭-৪, ইভান্স ৩.৩-০-২৩-৩, মায়ার্স ১-০-৯-০, ক্রিমার ,৪-০-৩৩-০ মাসাকাদজা ৪-০-৩৬-১, বার্ল ১-০-৯-১)।
ফল: জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ব্লেসিং মুজারাবানি।