
X
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরের প্রতিষ্ঠান গুলোতে কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে অফিস ভবনের ছাদ, আঙিনা কিংবা পার্কিং এলাকায় বসানো হয়েছে মৌচাক। লাঞ্চ ব্রেক কিংবা অবসর সময় কিছুসংখ্যক কর্মী সুরক্ষা পোশাক পরে মৌচাকের পাশে দাঁড়ান, মৌমাছি পর্যবেক্ষণ করেন, এমনকি মৌ চাষ শেখেন।
ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হাইব্রিড কাজের পরিবেশ এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকার কারণে যে ক্লান্তি তৈরি হয়, তা মোকাবিলার একটি উপায় হিসেবে মৌ চাষ করা হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
মানসিক স্বাস্থ্য বাড়ানো:
‘বাকলিস বিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের অফিসে মৌচাক বসানোর কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী এমা বাকলি জানান, যুক্তরাজ্যে তাঁদের প্রায় ২৪টি করপোরেট ক্লায়েন্ট রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আছে আরও ১০টির বেশি। চাহিদা দ্রুত বাড়ার কারণে নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এসব প্রতিণ্ঠানে দুপুরের কর্মশালায় কর্মীরা মৌ চাষ শেখেন। কিছু অফিসে মৌচাকের ভেতরে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যাতে কর্মীরা ডেস্কে বসেই মৌমাছির কার্যক্রম দেখতে পারেন। একটি প্রতিষ্ঠান তাদের বিশ্রামকক্ষে মৌচাকের লাইভ স্ট্রিমও চালু করেছে।
দলগত বন্ধন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন:
বিস ম্যাক্স লিঃ এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক গেইল জানান, অফিসে মৌ চাষ কর্মীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। কর্মীরা একই সঙ্গে মৌচাকের যত্ন নেন, যা তাঁদের মধ্যে দলগত বন্ধন, দায়িত্ববোধ তৈরি ও অভিজ্ঞতা অর্জনে সহযোগিতা করছে। লন্ডনের কয়েকটি অফিস ভবনেও মৌচাক বসানো হয়েছে। ভবন ব্যবস্থাপকদের মতে, এটি কর্মীদের কাছে স্মরণীয় একটি উদ্যোগ। প্রচলিত অফিসের তুলনায় এটি বেশি অর্থবহ বলে মনে করছেন অনেকে।
ব্যবসায়িক আগ্রহ বৃদ্ধি:
গ্রিন ফোক রিক্রুটমেন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস পেইন বছরে দু’বার তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মৌ চাষ শেখাতে নিয়ে যান। ভবিষ্যতে নিজেদের অফিসে মৌচাক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ক্রিস জানান, মৌচাক থেকে দলগত কাজ ও লক্ষ্যভিত্তিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা পাওয়া যায়। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে মৌ চাষ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণকালীন নতুন কর্মী নিয়োগ করছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, মুখে মুখে এই সেবা ছড়িয়ে পড়ছে ফলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিবেশবিদদের উদ্বেগ:
পরিবেশবিদদের একটি অংশ অবশ্য উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করছেন। শহরে অতিরিক্ত মৌচাক বসানো হলে স্থানীয় বন্য মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগবাহীর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সীমিত সবুজ এলাকায় খাদ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে হাই-ফাইভ ম্যানচেস্টারের প্রতিষ্ঠাতা ড্যামসন ট্রেগাস্কিস জানিয়েছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের পরিবেশবান্ধব ভাবমূর্তি গড়ার আগ্রহ দেখায়। তবে সচেতনভাবে পরিকল্পনা করে তা করা হলে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি সম্ভব।
নতুন প্রবণতা:
যুক্তরাজ্যে অফিসভিত্তিক মৌ চাষের এই প্রবণতা মূলত দুইটি লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে কর্মীদের মানসিক সুস্থতা এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা। মৌমাছির গুঞ্জন হয়তো অফিসের সব সমস্যা সমাধান করবেনা, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রকৃতির ছোঁয়া এনে দেবে। ফলে এটি অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।