প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম (ভিজিট : ১২০)

X
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কৈ, মাগুর, শিং, শোল, টাকি, আজলা সহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ। একসময় উপজেলার প্রায় প্রতিটি খাল, বিল ও ডোবায় এসব মাছের প্রাচুর্য ছিল। স্থানীয় জেলেরা সেখান থেকে মাছ ধরে শহর ও বন্দরের হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বর্তমানে শহর তো দূরের কথা, গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারেও চোখে পড়ে না ঐসব দেশীয় মাছ। ফলে মানুষ দিন দিন ভুলে যাচ্ছে দেশীয় মাছের স্বাদ। এতে করে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন উপজেলার শত শত জেলে পরিবার।
বদলগাছী সদরের ডাংগির বিলের ধারে কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০-১২ বছর আগেও এ বিলে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। মাছ বিক্রি করে তারা সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে-শাদি এবং সংসারের খরচ চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে নিজেরাই দেশীয় মাছের স্বাদ ভুলে যেতে বসেছেন বলে জানান তারা।
গত শনিবার ডাংগির বিল থেকে ধরা কিছু মাগুর ও শিং মাছ দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত পরিমাণে। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ জানান, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ না করলে একসময় এসব মাছ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, দেশীয় মাছের বিলুপ্তির পেছনে প্রধান কারণ হলো—ফসলের জমিতে অবাধে ক্ষতিকর কীটনাশক প্রয়োগ, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং বিভিন্ন অজুহাতে প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণির জনপ্রতিনিধি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।
এলাকার সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা মনে করেন, দেশীয় মাছের বংশ রক্ষা করতে হলে ভরাটকৃত প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো মাছের বসবাস ও চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং মৎস্য আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।