রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে ব্যাঙের বিষ (ডার্ট ব্যাঙ) দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এতে জড়িত ছিল খোদ দেশটির প্রশাসন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ গোয়েন্দা তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে মারা যান নাভালনি। দাফনের আগে তাঁর দেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি দেশে পাঠানো হয়েছিল।
তদন্তের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার দাবি করেছে, বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি অত্যন্ত ‘বর্বর’। রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন লঙ্ঘনের দায়ে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংস্থার কাছে অভিযোগ করবে।
নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে, নাভালনির শরীরে ইকুয়েডরের ডার্ট ব্যাঙের চামড়ায় থাকা প্রাণঘাতী বিষ (এপিবাটিডিন) ছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্ভবত এর ফলেই তিনি মারা গেছেন। কারাগারে বন্দি থাকা নাভালনির শরীরে এই বিষ প্রয়োগের সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ কেবল রুশ প্রশাসনেরই ছিল। ফলে মস্কোই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।
এপিবাটিডিন প্রাকৃতিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ডার্ট ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। বদ্ধ থাকা অবস্থায় ডার্ট ব্যাঙ এই বিষ তৈরি করে না। রাশিয়ার প্রকৃতিতেও এই ব্যাঙ পাওয়া যায় না। এর আগেও নাভালনিকে বিষ প্রয়োগে হত্যার সন্দেহ করা হয়েছিল। এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন ঘটনায় নতুন মোড় যোগ করল।
নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনাও গত বছরের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, ময়নাতদন্তের সময় শরীরে বিষের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, বিরোধীদের দমনে বিষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ক্রেমলিনের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ২০০৬ সালে লন্ডনে তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম প্রয়োগে আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে সলসবেরিতে সাবেক গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপালকে নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়।