শরণার্থীদের ভিড়ে নতুন সংকটে আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান ও ইরান থেকে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের নিজ দেশে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে নতুন সংকটের মুখে পড়েছে

2026-02-15T18:45:11+00:00
2026-02-15T18:45:11+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
শরণার্থীদের ভিড়ে নতুন সংকটে আফগানিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ১১১)
X




পাকিস্তান ও ইরান থেকে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের নিজ দেশে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে নতুন সংকটের মুখে পড়েছে আফগানিস্তান। জাতিসংঘ শুক্রবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, নজিরবিহীন এ প্রত্যাবর্তন দেশটিকে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এ নজিরবিহীন গণপ্রত্যাবর্তনের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। খবর এপি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের আফগানিস্তান প্রতিনিধি আরাফাত জামাল জেনেভায় এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ আফগানিস্তানে ফিরে এসেছে। তাদের অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও ইরান থেকে এসেছে।’ তিনি পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এ প্রত্যাবর্তনের গতি ও বিশাল আকার আফগানিস্তানকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান সরকার নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। দেশটিতে কয়েক দশক ধরে বসবাস করা আফগানদের স্বেচ্ছায় চলে যেতে বলা হয়, অন্যথায় গ্রেফতার ও জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘোষণা দেয়া হয়। একই সময়ে ইরানও অভিবাসীদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করে। এর ফলে যারা পাকিস্তানে জন্মেছেন এবং সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে তুলেছিলেন, তারাও সবকিছু ফেলে আফগানিস্তানে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত এক বছরেই ২৯ লাখ মানুষ আফগানিস্তানে ফিরেছেন, যা বিশ্বের ইতিহাসে কোনো একটি দেশে ফিরে আসার সর্বোচ্চ রেকর্ড। ২০২৬ সালের প্রথম দেড় মাসেই আরো দেড় লাখ মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার এ গণবিতাড়নের সমালোচনা করলেও ফিরে আসা মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বর্তমানে ফিরে আসা পরিবারগুলোকে সামান্য খাবার, কিছু নগদ টাকা এবং যাতায়াত ভাড়া দিচ্ছে আফগান কর্তৃপক্ষ। তবে দীর্ঘদিনের খরা, অর্থনৈতিক মন্দা এবং ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রভাবে বিধ্বস্ত দেশটির জন্য এ বাড়তি চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, উচ্চ হারে শরণার্থী ফিরে আসা এলাকাগুলোর ১০টি পরিবারের মধ্যে নয়টিই টিকে থাকার জন্য এখন দুবেলা না খেয়ে থাকছে কিংবা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার টিকে থাকার জন্য সহায়-সম্বল বিক্রি করে দিচ্ছে।

আরাফাত জামাল বলেন, ‘এ প্রত্যাবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ফিরে আসা মানুষ নিজ দেশে থাকতে চাইলেও কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক জীবনের অভাবে অনেকে আবারো বিপজ্জনক পথে দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন। পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এ বিশাল জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’






Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy