
X
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভায় নবীন-প্রবীণের মিশেলে এক ‘স্মার্ট ও স্বচ্ছ’ সরকার দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। এই প্রেক্ষাপটে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে ৪২,৫৬৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নাম এখন মুখে মুখে। তাঁর দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা, প্রশ্নাতীত সততা এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতি তাঁকে স্পিকার বা পূর্ণমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
‘ক্লিন ইমেজ’ ও নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
সাম্প্রতিক গণমাধ্যমগুলোতে (যুগান্তর ও প্রতিদিনের বাংলাদেশ) ‘ক্লিন ইমেজের মন্ত্রিসভা সময়ের দাবি’ শিরোনামে যে আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে, তার সঙ্গে নিজানের প্রোফাইল হুবহু মিলে যায়।
ঘুষ প্রত্যাখ্যানের সাহস: সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন ১০ কোটি টাকার সরাসরি অফার ফিরিয়ে দিয়ে তিনি যে নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বর্তমান রাজনীতিতে বিরল।
মিতব্যয়িতা ও দায়বদ্ধতা: সরকারি অর্থে প্রটোকল বা বিদেশ ভ্রমণের মোহ ত্যাগ করে তিনি নিজেকে একজন ‘জনবান্ধব ও মিতব্যয়ী’ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
কেন তিনি স্পিকার পদের জন্য যোগ্য?
জাতীয় সংসদের অভিভাবক বা স্পিকার পদের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, নিরপেক্ষতা এবং সংসদীয় রীতিনীতির গভীর জ্ঞান।
অভিজ্ঞতা: সাবেক সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সফল চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা সংসদ পরিচালনায় সহায়ক হবে।
ব্যক্তিত্ব: তাঁর মার্জিত ভাষা ও সংযত আচরণ বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবেও সমান কার্যকর
বিএনপির লক্ষ্য মন্ত্রণালয় কমিয়ে ৩০-এর নিচে নামিয়ে আনা এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নিজানকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিলে তিনি দেশের উপকূলীয় অর্থনীতি ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারেন।
লক্ষ্মীপুর-৪ এর গণদাবি
রামগতি ও কমলনগরের সাধারণ মানুষ মনে করেন, নিজান কেবল একজন সংসদ সদস্য নন, বরং সংকটে-সংগ্রামে পাশে থাকা এক অভিভাবক। নদীভাঙন রোধ থেকে শুরু করে নতুন উপজেলা গঠন—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের এই ‘রত্ন’কে এবার জাতীয় পর্যায়ে বড় নীতি-নির্ধারণী ভূমিকায় মূল্যায়ন করা হোক।
শেষ কথা
তারেক রহমান এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেখানে দক্ষতা ও সততার মূল্য থাকবে সর্বোচ্চ। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে, লক্ষ্মীপুর-৪-এর এই নীরব ও কর্মঠ নেতাকে জাতি কোন উচ্চতায় দেখতে পাবে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আশরাফ উদ্দিন নিজানের মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতার অন্তর্ভুক্তি নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে—এ কথা বলাই বাহুল্য।