
X
ফাইল ছবি
কানাডার যুবরাজ সিং সামরার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি ছাপিয়ে নিউজিল্যান্ড বড় জয় পেয়েছে। ২৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জিতে টি২০ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দল হিসেবে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে তারা। ভারতের চেন্নাইয়ে মঙ্গলবার আগে ব্যাটিং করে এই আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ করে কানাডা। ৪ উইকেটে তারা করেছিল ১৭৩ রান। নিউজিল্যান্ড সফলভাবে রান তাড়া করেছে কোনো অসুবিধা ছাড়াই। ১৫.১ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান করে জয়ের বন্দরে তরী ভেড়ায় কিউইরা।
‘ডি’ গ্রুপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে শেষ আটে নিউজিল্যান্ড। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরে পরের পর্বে ওঠার অপেক্ষায় ছিল তারা। তাইতো লক্ষ্যে নেমে চার বলের মধ্যে কোনো রান না হতেই দুই ওপেনারকে হারায় নিউজিল্যান্ড। টিম সেইফার্ট (৬) ও ফিন অ্যালেনকে (২১) হারানোর পর রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপসের জুটিতে জিতে গেছে তারা। ৭৩ বলে ১৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন গ্লেন ফিলিপস (৭৬*) ও রাচিন রবীন্দ্র (৫৯*)।
রাচিন ৩৯ বলে চারটি চার ও তিনটি ছয়ে ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৩৫ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি। ২২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা ফিলিপস ৩৬ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪ চার ও ৬ ছয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংস।
এর আগে ওপেনিং জুটিতে শতক ছাড়ায় কানাডা। যুবরাজের সঙ্গে দিলপ্রীত বাজওয়া ১১৬ রানের জুটি গড়েন। ১৪তম ওভারের শেষ বলে এই জুটি ভাঙে। ৩৬ রান করে থামেন দিলপ্রীত। অধিনায়কের বিদায়ের পর শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে কানাডা। ১ উইকেটে ১৫৩ রান করা দলটির চতুর্থ উইকেট পড়ে ১৬৪ রানে। যুবরাজ বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হয়েছেন ৫৮ বল খেলে, ১০ চার ও ৬ ছয়ে। ৬৫ বলে ১১ চার ও ৬ ছয়ে ১১০ রানে আউট হন তিনি।
তবে ম্যাচটাতে রেকর্ড গড়া এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন কানাডার যুবরাজ সামরা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে তার বিধ্বংসী ব্যাটেই ৪ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে কানাডা। ৬৫ বলে ১১০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন যুবরাজ। তাতে ছিল ১১টি চার ও ৬টি ছয়। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে কোনও সহযোগী দেশের ব্যাটারের করা এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের নজির। শুধু কি তাই? ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে টি২০ বিশ্বকাপে ফিফটি ছোঁয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটারও এই বাঁহাতি।
বল হাতে সেই লড়াই জমাতে পারেনি কানাডা। শুরুতে টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেনকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে চাপ তৈরি করলেও পরে গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাচ বের করে নেন। তবে চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তবে তাকে হতাশ করেননি ড্যারিল মিচেলের নেতৃত্বে সতীর্থরা।
ফিলিপস ৩৬ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন। রাবীন্দ্রও কম ছিলেন না। ৩৯ বলে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৫৯ রান করেন তিনি। তাতে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। তৃতীয় উইকেটে তারা মাত্র ৭৩ বলে ১৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তাতে ৪.৫ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
এই গ্রুপ থেকে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
কানাডা :২০ ওভারে ১৭৩/৪ (সামরা ১১০, দিলপ্রিত ৩৬, নাভনিত ১০, কার্টন ২, হার্শ ৩*, হেলাইগার ৮*, হেনরি ১/২৮, ডাফি ১/২৫, জেমিসন ১/৪১, নিশাম ১/৩৮, ম্যাককননি ০/৩৪, ফিলিপস ০/৬)।
নিউজিল্যান্ড : ১৫.১ ওভারে ১৭৬/২ (সেইফার্ট ৬, অ্যালেন ২১, রবীন্দ্র ৫৯*, ফিলিপস ৭৬*; জাসকারান ০/৩১, হেলাইগার ১/৪২, সাদ ১/২৯, দিলপ্রিত ০/২৬, আনশ ০/২৪, শিভাম ০/২৩)।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: গ্লেন ফিলিপস।