রোজার নিয়ত: বাংলা উচ্চারণ ও কখন করবেন

অনলাইন ডেস্ক

ধর্ম

পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি ও সিয়াম সাধনার মাস। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো

2026-02-18T16:56:32+00:00
2026-02-18T16:56:32+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
রোজার নিয়ত: বাংলা উচ্চারণ ও কখন করবেন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৩৭৩)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি ও সিয়াম সাধনার মাস। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নিয়ত বা সংকল্প। নিয়ত শব্দের অর্থ হলো মনের ইচ্ছা। অর্থাৎ, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো কাজ করার দৃঢ় সংকল্প করাই হলো নিয়ত। যদি কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন কিন্তু মনে রোজা রাখার কোনো সংকল্প না থাকে, তবে তা কেবল উপবাস হিসেবেই গণ্য হবে; শরিয়তের দৃষ্টিতে তা রোজা হিসেবে সাব্যস্ত হবে না।

রমজানের রোজার নিয়ত করার সময় নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। আলেমদের মতে, রমজানের রোজার নিয়ত মূলত রাত থেকেই করা যায়। বিশেষ করে ভোররাতে যখন একজন মুসলিম সাহ্‌রি খেতে ওঠেন, তখনই তার অন্তরে রোজা রাখার যে ইচ্ছা থাকে, সেটিই নিয়ত হিসেবে গণ্য হয়। অনেকে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা বা আরবিতে পড়া জরুরি মনে করেন, যা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাতেও নিয়ত করা যায় এবং মনে মনে সংকল্প থাকলেই নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যাবে।

রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ :
নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

রোজার বাংলা নিয়ত ও অর্থ
হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি, যা আপনার সন্তুষ্টির জন্য ফরজ করা হয়েছে। অতএব, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

রমজানের ফরজ রোজার ক্ষেত্রে যদি কোনো কারণে রাতে নিয়ত করতে ভুল হয়ে যায়, তবে দিনের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নিয়ত করার সুযোগ থাকে। তবে সুবেহ সাদিকের পর থেকে নিয়ত করার আগ পর্যন্ত রোজা ভঙ্গের কোনো কাজ করা যাবে না। একইভাবে নির্দিষ্ট তারিখে মানত করা রোজার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে অনির্দিষ্ট মানত, কাজা রোজা কিংবা কাফফারার রোজার ক্ষেত্রে অবশ্যই সুবেহ সাদিকের আগে অর্থাৎ রাত থাকতেই নিয়ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে দিনের বেলা নিয়ত করার কোনো সুযোগ নেই।

ব্যক্তির অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নিয়তের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। একজন সুস্থ ও মুকিম ব্যক্তি (যিনি সফর করছেন না) যদি রমজানের দিনে ভুলে অন্য কোনো ওয়াজিব রোজার নিয়ত করেন, তবে সেটি রমজানের রোজাই হিসেবে গণ্য হবে। তবে একজন মুসাফির বা ভ্রমণকারী ব্যক্তি যদি রমজানের দিনে নফল রোজার নিয়ত করেন, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে সেটি রমজানের রোজা হিসেবেই সাব্যস্ত হবে।

সহজভাবে বলতে গেলে, রোজার মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পানাহার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার মানসিক প্রতিজ্ঞা। যারা মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পড়তে চান, তারা রমজানের রোজার জন্য বাংলা বা আরবিতে প্রচলিত বাক্যগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবে আল্লাহ বান্দার অন্তরের খবর জানেন, তাই অন্তরের গভীর সংকল্পই সিয়াম পালনের জন্য যথেষ্ট। ইসলামের এই সহজ ও সুন্দর বিধানগুলো মেনে চললে প্রতিটি মুমিনের রোজা পালন আরও ফলপ্রসূ ও সার্থক হবে।






Loading...
Loading...


ধর্ম এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy