
X
শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় নির্মাণ হচ্ছে বিশাল এক সমুদ্রনগরী। ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের এ পোর্ট সিটি কলম্বো প্রকল্পের জন্য এখন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী খুঁজছে দেশটি। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রচার অভিযান শুরু করেছে শ্রীলংকা সরকার। বড় ধরনের কর ছাড় ও শতভাগ বিদেশী মালিকানার সুযোগ দিয়ে এ প্রকল্পকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থ ও বাণিজ্য কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
সম্প্রতি লন্ডন থেকে ব্যাংকক পর্যন্ত ধারাবাহিক রোডশো বা বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে শ্রীলংকা কর্তৃপক্ষ। গত মাসে দুবাই ও সিঙ্গাপুরে বড় ধরনের অনুষ্ঠানের পর এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়তে চাইছে দেশটি। ভারত মহাসাগর থেকে উদ্ধার করা ২৬৯ হেক্টর জমির ওপর এ আধুনিক শহর গড়ে তোলা হচ্ছে।
এটি হবে শ্রীলংকার প্রথম মাল্টি-সার্ভিস বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)। প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান সিএইচইসি পোর্ট সিটি কলম্বোর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর থুলসি আলুউইহারে বলেন, ‘অবকাঠামো নির্মাণের পর্যায় শেষ করে এ প্রকল্প এখন বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার দিকে এগোচ্ছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ২০৪১ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।’
বিনিয়োগকারীদের টানতে শ্রীলংকা বেশকিছু আকর্ষণীয় সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে শতভাগ বিদেশী মালিকানা এবং লভ্যাংশ নিজ দেশে নেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা। কৌশলগত রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১৫ বছর পর্যন্ত কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যোগ্য ব্যবসাগুলোর জন্য চার বছর মেয়াদি সাশ্রয়ী করপোরেট করহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ প্রকল্প নিয়ে শুরু থেকেই কিছুটা বিতর্ক ছিল। ২০১৪ সালে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে এতে ১৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএইচইসি)। তবে আলুউইহারে জানান, এ প্রকল্পের মালিকানা পুরোপুরি শ্রীলংকা সরকারের হাতে। প্রকল্পের তদারকি করছে কলম্বো পোর্ট সিটি ইকোনমিক কমিশন।
জাপান থেকেও বিনিয়োগ পাওয়ার আশা করছে শ্রীলংকা। জাপানে নিযুক্ত শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত পিভিথুরু জনক কুমারসিংহে জানান, এরই মধ্যে ২০০টির বেশি জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে টোকিও ও ওসাকায় রোডশো ও নীতিনির্ধারণী বৈঠক পরিচালনা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের আওতায় জাপানের সরকারি সংস্থা জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সঙ্গেও কাজ করছে দেশটি।
নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ফিলিস্তিনের গাজায় শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষত ও দৈনন্দিন সংগ্রামের মাঝে অনেক ফিলিস্তিনির জীবনে রমজানের চেনা আনন্দ এবার অনুপস্থিত।
গাজা সিটির বাসিন্দা ফিদা আইয়াদ বলছেন, পরিবার-পরিজন হারানোর পর আনন্দ বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকলেও হৃদয়ে রমজানের অনুভূতি জাগে না। তার মতো অনেকেই এবার রমজানের আবহ টের পাচ্ছেন না।
গাজায় রমজানের প্রথম দিন বুধবার। সাধারণ সময়ে এই মাসে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে মিলিত হওয়া, ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও দান-খয়রাতের চর্চা বাড়ে। কিন্তু এবার বাস্তবতা ভিন্ন।
যুদ্ধের অভিঘাতে গাজায় স্বাভাবিক জীবন ভেঙে পড়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গাজার অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত।
রমজানের আগমনে বাজারে লোকজন গেলেও অর্থনৈতিক সংকটের ভারী ছায়া পড়েছে। গাজা সিটির বাসিন্দা ওয়ালিদ জাকজুক বলছেন, মানুষের হাতে নগদ টাকা নেই, কাজ নেই; অথচ রমজান এলে কিছুটা হলেও খরচ করতে হয়। তিনি মানুষের আর্থিক দুরবস্থা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীদের। তার ভাষায়, যুদ্ধের আগে মানুষ সম্মানজনক জীবন যাপন করত; যুদ্ধ সবকিছু বদলে দিয়েছে, মানুষকে নিঃস্ব ও ক্লান্ত করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়। এতে দুই বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা হয়েছে। বড় ধরনের লড়াই কমলেও প্রায় প্রতিদিনই গাজায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ চলছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির পরও এসব ঘটনায় ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েল। শীতকাল গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা আরও স্পষ্ট করেছে। তীব্র শীতে শিশু মৃত্যুর খবর এসেছে; ভারী বৃষ্টিতে আশ্রয়শিবির প্লাবিত হয়েছে, ধসে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন।
গাজা সিটির বাসিন্দা রায়েদ কুহাইল বলছেন, যুদ্ধের আগের রমজান আর এবারের রমজানের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আগে রাস্তা-ঘাট সাজানো থাকত, শিশুদের আনন্দে মুখর থাকত চারপাশ। তবু সব কষ্টের মাঝেও কেউ কেউ রমজানের একটু রঙ ফেরাতে চেষ্টা করছেন। খান ইউনুসের ধ্বংসস্তূপের ভেতর ক্যালিগ্রাফার ও শিল্পী হানি দাহমান রং তুলিতে লিখছেন ‘স্বাগত রমজান’। পাশে দাঁড়িয়ে শিশুরা দেখছে। তার লক্ষ্য শিশু, নারী ও পুরো পরিবারগুলোর মনে সামান্য হলেও আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিশ্বকে জানানো, এই মানুষগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়।
ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে ঝুলছে রমজানের সাজ। মোহাম্মদ তানিরি দাঁড়িয়ে দেখছেন সেই সাজ তৈরি হতে। তিনি বলছেন, এমন ছোট ও সুন্দর সাজ শিশুদের আনন্দ দেয়; সব কষ্টের মধ্যেও মানুষ একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।