ভারত ও শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শুরুর আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতিটা দারুণভাবে সেরে রাখলো দক্ষিণ আফ্রিকা। বুধবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। গ্রুপ ‘ডি’-তে খেলা চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাচ্ছে ২০২৪ আসরের রানার্সআপরা।
ভারতের মাটিতে সুপার এইটস পর্বের আগে স্বাগতিক সুর্যকুমারের দল ভারতের জন্য বড় সতর্কবার্তা পাঠাল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। বুধবার নয়াদিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ছয় উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত ফর্মের জানান দিল প্রোটিয়ারা। এদিন সকালের বৃষ্টিতে সজীব হয়ে ওঠা পিচে আগে ব্যাট করা আমিরাত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে তোলে মাত্র ১২২ রান। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ১৩.২ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে, ফলে গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়ে নিখুঁত রেকর্ড নিয়ে শেষ করে তারা।
অধিনায়ক এইডেন মার্করামের দল এখন মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক ভারতের, রোববার আহমেদাবাদে সুপার এইটসের প্রথম ম্যাচে। এটি হবে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি, যেখানে বার্বাডোসে ভারত শিরোপা জিতেছিল। ঘরের মাঠে আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভারত হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা জানিয়ে দিয়েছে, তারাও এবার ট্রফির জন্য প্রস্তুত। কঠিন গ্রুপ ‘ডি’, যেখানে ছিল নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল, সেখান থেকে শীর্ষে থেকে উঠে এসেছে তারা।
আরব আমিরাতের বিপক্ষে সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে ডেভিড মিলার, মার্কো জানসেন, কেশভ মহারাজ ও লুঙ্গি এনগিডির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ। তাইতো এদিন টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই ওপেনার আরিয়ানশ শর্মা (১৩) ও ওয়াসিম মুহাম্মদ (২২) ভালো শুরু করলেও করবিন বশ ও জর্জ লিন্ডে তাদের ফিরিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন আলিশান শারাফু। শেষ ৪ ওভারে প্রোটিয়া বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২০ রান তুলতে পারে ইউএই। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১২২ রানে থামে তাদের ইনিংস।
ইনিংস বিরতির সময় বৃষ্টি নামলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়। তবে খেলা শুরু হতেই অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ঝড় তোলেন। মাত্র ১১ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলে জয়ের পথ সহজ করে দেন তিনি। এরপর রায়ান রিকেলটন (৩০) এবং তরুণ সেনসেশন ডিওয়াল্ড ব্রেভিস (৩৬) রানের গতি বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত ১৪তম ওভারেই অর্থাৎ ৪০ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই হারের ফলে একটি মাত্র জয় (কানাডার বিপক্ষে) নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে সুপার এইট মিশন শুরু করতে যাচ্ছে।
ভারতের দিল্লিতে বুধবার চারটি ক্যাচ ছেড়েও আমিরাতকে ১২২ রানে আটকে রেখে প্রোটিয়ারা। রান তাড়ায় ম্যাচ জিতে যায় তারা ৪০ বল বাকি রেখেই। ১২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা প্রোটিয়া পেসার করবিন বশ। আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করা দক্ষিণ আফ্রিকা এ দিন বিশ্রামে রাখে ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এনগিডি, কেশাভ মহারাজ ও মার্কো ইয়ানসেনকে। টস জিতে বোলিংয়ের সূচনা করেন কাগিসো রাবাদা। অভিজ্ঞ পেসারের প্রথম ওভারেই ব্যাটের কানায় লেগে ছক্কা পেয়ে যান আরিয়ানশ শার্মা।
রাবাদার পরের ওভারে টানা তিনটি চার মারেন আমিরাতের অধিনায়ক মুহাম্মাদ ওয়াসিম। ৪ ওভারে ৩৬ রান তুলে শুরুর জুটি তখন চোখ রাঙাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। চারটি ক্যাচ ছাড়েন প্রোটিয়া ফিল্ডাররা, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি আমিরাতের ব্যাটসম্যানরা। আর সহজ রান তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী। রানও উঠতে থাকে দ্রুততায়। অতি আগ্রাসী হওয়ায় উইকেটও হারাতে হয় কিছু। কোনো ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে জয় ধরা দেয় অনায়াসেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সংযুক্ত আরব আমিরাত :২০ ওভারে ১২২/৬ (আরিয়ানশ ১৩, ওয়াসিম ২২, শারাফু ৪৫, সোহেইব ৬, সৈয়দ হায়দার ৬, আরফান ১১, পারাশার ৫*, ফারুক ১*; রাবাদা ০/৩০, মাফাকা ০/৩০, নরকিয়া ১/২৮, লিন্ডা ১/১৭, বশ ৩/১২)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৩.২ ওভারে ১২৩/৪ (মার্করাম ২৮, ডি কক ১৪, রিকলটন ৩০, ব্রেভিস ৩৬, স্টাবস ৬*, স্মিথ ৩*; পারাশার ০/৮, জুনায়েদ ০/২৩, হায়দার আলি ১/৩৩, জাওয়াদউল্লাহ ১/২০, আরফান ১/১৬, ফারুক ১/১৯)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: করবিন বশ।