প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০৪ পিএম (ভিজিট : ৪৩)

X
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের মাধ্যমে রাস্তার দুই পাশের কাটা মাটির মিশ্রিত বালি দিয়ে বক্স না করেই নিম্নমানের ইট খোয়াসহ নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তায়। আর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যেনতেন ভাবে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অর্থায়নে সোনাইমুড়ী সরকারী ডিগ্রী কলেজ গেইট থেকে মুহুরীগঞ্জ পর্যন্ত সংস্কারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোমেনা কনস্ট্রাকশনের কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। চিটাগাং ওয়েডেলিং প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭.৫ কিলোমিটার রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। প্লাস্টারের বালু দিয়ে রাস্তার পাশে গাইড ওয়ালের নিচে ৩ ইঞ্চি ঢালাইয়ের কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ২ ইঞ্চি ঢালাই দিয়েছে ঠিকাদার। রাস্তার দুই পাশে অয়েডেলিং সাব- বেইজ নিম্নমানের খোয়া ও খোয়ার সাইজ বড় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর থেকে কর্তৃপক্ষ বারবার বলার পরও ঠিকাদার শুনছে না।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রাস্তাটি সংস্কার কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলেও বন্ধ হয়নি সড়কের কাজ। এখনো অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোমেনা কনস্ট্রাকশন।
স্থানীয়রা জানান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন সড়ক সংস্কার কাজে ব্যপক অনিয়ম হচ্ছে। তারা বাধা দিলেও মানছেনা ঠিকাদার। নিম্নমানের ইট এবং প্লাস্টারের বালু দিয়েই করেছে কাজ। নিজেদের খেয়াল খুশিমতো কাজ করে যাচ্ছে ঠিকাদার লোকজন। প্রতিবাদ করলে উল্টো ঠিকাদার রাজনৈতিক দলের লোকজন দিয়ে স্থানীয়দের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চলছে এই অনিয়ম। নির্মাণের পর রাস্তা আবারো নষ্ট হয়ে যাবে। তখন আমাদেরকেই ভুগতে হবে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তারা জোর দাবি জানায়।
উপজেলার নান্দিয়াপাড়া বাজারের সিরাজ সাইকেল স্টোরের মালিক সিরাজ মিয়া জানান, তার দোকানের সামনেই রাস্তার পাশে ইটের গাঁথুনি দিয়েছে। সেই ইটগুলো নিম্নমানের দিয়েছে ঠিকাদার। স্থানীয়রা বিষয়টি ফেসবুকে ছেড়ে প্রতিবাদ করলেও কর্ণপাত করছে না ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ। একইভাবে ওই বাজারের চা দোকানী শামসুদ্দিন জানান, রাস্তার সংস্কার কাজে দেখার কেউ নেই। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার। ঢালাই ও গাঁথুনিতে পরিমাণে সিমেন্ট কম দিচ্ছে। এলাকাবাসীর নিষেধ শুনছে না।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ সিহাব আহমেদ বলেন, সোনাইমুড়ী সরকারী ডিগ্রী কলেজ গেইট থেকে মুহুরীগঞ্জ পর্যন্ত চিটাগাং ওয়েডেনিং প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭.৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোমেনা কনস্ট্রাকশন। নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী দিচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কয়েকবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বললেও শুনছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন,শুনেছেন রাস্তার পাশে প্লাসাইডিং গাঁথুনিতে ইট নিম্নমানের দেয়া হচ্ছে। পরে ঠিকাদারকে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোমেনা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ আলমের বক্তব্য নিতে তার মুটো ফোনে কল দিলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।