
X
সংগৃহীত ছবি
মহান রাব্বুল আলামিন এক সময়কে আরেক সময়ের ওপর, এক স্থানকে আরেক স্থানের ওপর এবং এক মাসকে আরেক মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। নিঃসন্দেহে বছরের শ্রেষ্ঠ মাস হলো মাহে রমজান। এ মাস রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। বান্দা এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে আগের ১১ মাসের গুনাহ থেকে ক্ষমা লাভের সুবর্ণ সুযোগ পায়।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,“অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।”
-কোরআন শরীফ, সূরা আল আহযাব: ২১
রমজান মাসে দোয়া কবুলের কয়েকটি বিশেষ সময় রয়েছে। এসব সময়ে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে আল্লাহ বান্দার প্রার্থনা ফিরিয়ে দেন না।
১. রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (ফজরের আগে)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন সময়ের দোয়া আল্লাহ বেশি কবুল করেন? তিনি বলেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে।
এ সময় আল্লাহ তাআলা বান্দাদের আহ্বান করেন- ১/ কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? ২/ কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? এবং ৩/ কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?
রাতের এ সময়টি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফজরের আগে তাওবা-ইস্তিগফার, নফল নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা উচিত। বিশেষ করে রমজানের শেষ রাতগুলো আরও বেশি ফজিলতপূর্ণ।
২. ইফতারের ঠিক আগে
ইফতারের আগ মুহূর্ত দোয়া কবুলের অন্যতম সময়। এ সময় রোজাদার ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় ক্লান্ত থাকে, হৃদয় নরম থাকে এবং আল্লাহর প্রতি তার নির্ভরতা গভীর হয়।
খাবার সামনে থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর হুকুমে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা বান্দার তাকওয়ার প্রমাণ। তাই এ সময় আন্তরিকভাবে করা দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।
ইফতারের আগে কিছু সময় নির্জনে তাওবা-ইস্তিগফার ও দোয়া করা উচিত। রান্নাবান্না ও অন্যান্য কাজ আগেই শেষ করে এ সময়টিকে ইবাদতের জন্য সংরক্ষণ করা উত্তম।
৩. লাইলাতুল কদর
রমজানের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রাত হলো লাইলাতুল কদর। এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত এ রাতে অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা করা হয় এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ রাতে বেশি বেশি নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল ও দোয়া করা উচিত।
সেহরির গুরুত্ব
রাতের শেষ অংশে দোয়ার পর সেহরি গ্রহণ করা সুন্নত ও বরকতময়। সেহরি রোজাদারকে দিনভর ইবাদত ও কর্মে শক্তি জোগায়। যারা সেহরি গ্রহণ করে, ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া করেন।
রমজানে দোয়া কবুলের বিশেষ কিছু সময় থাকলেও পুরো মাসজুড়েই আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার দরজা খোলা থাকে। তাই রমজানকে ঘুমে বা অবহেলায় নষ্ট না করে দোয়া, ইস্তিগফার, কোরআন তেলাওয়াত ও নেক আমলের মাধ্যমে কাটানো উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এ পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষা করে যথাযথভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।