সজনের বৈজ্ঞানিক নাম Moringa oleifera (মোরিঙ্গা অলিফেরা)। এর ফুল, পাতা ও মূল ভেষজ গুণ ও পুষ্টিমানসমৃদ্ধ। সাদা রঙের সুগন্ধি সজনে ফুল বসন্তকালে ফোটে; শাক বা বেগুনের সঙ্গে ভাজি করে খাওয়া যায়। এতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং এটি প্রজননতন্ত্রের টনিক হিসেবেও কার্যকর বলে পরিচিত। পানি পরিশোধন ও ভেষজ ওষুধ তৈরিতেও সজনে ব্যবহৃত হয়।
খরা-সহিষ্ণু এ গাছ গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে ভালো জন্মে। দেশে সাধারণত ডাল পুঁতে এর বংশবিস্তার করা হয় এবং গ্রীষ্মকাল রোপণের উপযুক্ত সময়। পুষ্টিবিদদের মতে ‘মিরাকল ট্রি’ বা অলৌকিক গাছ হিসেবে পরিচিত সজনে পুষ্টিঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও জিংক রয়েছে। বসন্তকালে সজনে ফুল রান্না করে খেলে সর্দি-কাশি উপশমসহ নানা উপকার পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে সজনে ফুল, পাতা ও ডাটা জনপ্রিয় সবজি। আয়ুর্বেদ ও ইউনানী চিকিৎসায়ও এর ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ আমেরিকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। তবে গাইবান্ধা জেলায় এখনো বাণিজ্যিক চাষ তেমন বিস্তৃত হয়নি।
সজনে ডাটাকে পুষ্টির ভাণ্ডার বলা হয়। হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্ত্র ও কিডনির সুরক্ষা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি জোগাতে এটি উপকারী। প্রদাহনাশক গুণের পাশাপাশি বাতব্যথা ও হৃদ্রোগ প্রতিরোধেও সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও এটি উপকারী বলে ধারণা করা হয়।
গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় এখন সজনে গাছ ফুলে ফুলে শোভিত। শুকনো মাটিতেও সহজে জন্মায় এ গাছ; রাস্তা, মাঠ, খাল-বিলের পাড়, পরিত্যক্ত জায়গা কিংবা বাড়ির আঙিনায় ডাল পুঁতে দিলেই গাছ হয়। রাসায়নিক সার ছাড়াই আশানুরূপ ফলন সম্ভব হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। ফলে সজনে এখন গাইবান্ধার প্রকৃতি ও পুষ্টি সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাইবান্ধার উপ-পরিচালক মোঃ আতিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, সজনের বারো মাসী জাত আছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরিত্যাক্ত জমিতে চাষের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আসন্ন রমজানে সজনে ফুল ও ডাটা বিক্রি করে কৃষকরা ভাল দাম পাবেন বলে আশা করছি।