
X
রমজানে রোজা রাখলে অনেকেরই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যায়। দেখা দেয় পেট জ্বালাপোড়া, বুকে ব্যথা, বদহজম, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা।সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় ভরপেট ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় পানীয় পান করার কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যায়। একইভাবে সেহরির সময় তৈলাক্ত ও ভারী খাবার খাওয়ার ফলে সারাদিন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগতে হয়।
দৈনন্দিন জীবনে খাবার হজম করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। তবে রোজা রাখার কারণে দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা হয় না, ফলে অপাচ্য খাবার অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য সুস্থভাবে রোজা রাখতে চাইলে ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এড়াতে বুঝে শুনে খাবার খেতে হবে।
সেহরির সময় ভারী খাবার গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। ভারি খাবার হজম হতে পাকস্থলীর অনেক সময় লাগে। এছাড়া মাংস দিয়ে তৈরি খাবার হজম করতে পেটকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। ফলে বদহজম হতে পারে, যার কারণে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
এজন্য ভারী খাবার ও মাংস দিয়ে তৈরি খাবার পরিহার করতে হবে।
সেহরিতে বেশি বেশি পানি ও পানি সমৃদ্ধ খাবার হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে ও আপনাকে সারাদিন হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। সেহরির শেষে পুদিনা চা পান করলে সারাদিনের গ্যাস ও অ্যাসিডিটি কম হয় এবং পাকস্থলীর ক্রিয়াকলাপকে ত্বরান্বিত ও অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে। তাই সেহরি ও ইফতারের শেষে এই পুদিনা চা খেতে পারেন।
এছাড়া গুড় গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং হজমের ক্রিয়াকলাপকে ত্বরান্বিত করে ও পেট ফোলার সমস্যা প্রতিরোধে সেহরি ও ইফতারের গুড় খাওয়া যেতে পারে।
ইফতারে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার কিংবা তেলে ডুবিয়ে যেসব খাবার তৈরি করা হয় যেমন পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, চিকেন ফ্রাই এর মতো চর্বি জাতীয় ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার এবং চা, কফি ইত্যাদি যতটুকু সম্ভব পরিহার করতে হবে। রোজা রাখার পর ইফতারে একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার খাওয়া যাবে না এতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যায়।
খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত আর খেজুরের মধ্যে শর্করা ছাড়াও প্রায় সব ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে ফলে খেজুর খাওয়া ভালো তবে ৪-৫টি খেজুর খেতে পারেন। আর ডায়াবেটিস রোগীরা অবশ্যই রক্তে শর্করার মাত্রা মেপে তবেই খেজুর খাবেন। না হলে ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে।
টকজাতীয় ফলে ভিটামিন ‘সি’-এর পাশাপাশি সাইট্রিক অ্যাসিডও থাকে। তাই ইফতারের সময় টক জাতীয় ফল বেশি না খাওয়াই ভালো, খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে, এছাড়া ইফতারে ঝাল খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই অতিরিক্ত ঝাল খাবার পরিহার করতে হবে।
বাজারে গ্যাস্ট্রিকের অনেক ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় যা খেলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনই উত্তম।