প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম (ভিজিট : ১২৪)

X
রমজান ইসলামী ঐতিহ্যের গভীরে প্রোথিত এবং নবী মুহাম্মদ (সা.) এর উপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সূচনা করে। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের জন্য এই মাসের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম।
রমজান মাসে সাওম বা রোজা রাখা ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের চতুর্থ স্তম্ভ, যা মুসলমানদের জীবনযাপনের মূল ভিত্তি নির্ধারণ করে। রোজার উদ্দেশ্য হলো হল তাকওয়া (আল্লাহর প্রতি ভয় বা ভালোবাসা) বা আল্লাহ-সচেতনতা অর্জন করা এবং সব রকম পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা, সংযম অবলম্বন করা।
রোজা একটি পবিত্র কর্তব্য এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, আত্ম-শৃঙ্খলা, আধ্যাত্মিক বিকাশ, নৈতিক পরিশুদ্ধি এবং অন্যদের প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধির শিক্ষা অর্জন। সমস্ত শারীরিক ক্ষুধা থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে ত্যাগ করার জন্য নিষ্ঠার অনুশীলন।
রমজান মাসে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছেন এবং শারীরিকভাবে সক্ষম মুসলিমরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রেখে থাকেন। মুসলমানরা রোজা শুরুর জন্য ভোরের আগে খাবার খান, যা 'সেহরি' বা 'সুহুর' নামে পরিচিত। দিনের আলো চলাকালে তারা কোনোরূপ খাবার বা পানীয় এমনকি পানিও গ্রহণ করতে পারেন না। আর সূর্যাস্তের পর 'ইফতার' বা 'ফিতুর' নামে পরিচিত সন্ধ্যার খাবারের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করেন। রোজা মানে কেবল খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়, বরং যৌন সম্পর্ক এবং খারাপ আচরণ থেকেও বিরত থাকা।
ইসলাম স্বাস্থ্যকে কঠোর আনুগত্যের ওপর অগ্রাধিকার দিয়ে রোজা থেকে কিছু মানুষকে অব্যাহতি দেয়। এর মধ্যে রয়েছে বয়ঃসন্ধিতে না পৌঁছানো শিশু, গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো নারী, ঋতুমতী নারী, অসুস্থ ব্যক্তি বা যাদের স্বাস্থ্যের ওপর রোজার প্রভাব পড়তে পারে এবং যারা ভ্রমণে আছেন।