প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ পিএম (ভিজিট : ৩৯)

X
বিশ্বের গভীরতম হ্রদ বৈকালের নীল স্বচ্ছ বরফই কাল হলো একদল পর্যটকের জন্য। রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় হিমায়িত বৈকাল হ্রদের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বরফ ফেটে মিনিবাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাতজন চীনা পর্যটক এবং একজন রুশ চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন ডুবুরিরা। নিহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। খবর বিবিসি।
গত শুক্রবার সাইবেরিয়ার ইরকুটস্ক অঞ্চলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আঞ্চলিক গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, পর্যটকদের বহনকারী মিনিবাসটি হ্রদের ওপর দিয়ে চলার সময় হঠাৎ তিন মিটার চওড়া একটি বিশাল ফাটলের কবলে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটি পর্যটকদের নিয়ে ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) গভীর কনকনে ঠান্ডা পানির নিচে তলিয়ে যায়।
বাসে থাকা পর্যটকদের মধ্যে মাত্র একজন অলৌকিকভাবে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। বাকিরা হ্রদের তলদেশেই আটকা পড়েন। উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া ডুবুরিরা পানির নিচে বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সবকটি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
বৈকাল হ্রদ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও শীতকালে এর ওপর দিয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গভর্নর কোবজেভ টেলিগ্রামে এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই যে, বৈকালের বরফের ওপর এখন যাওয়া কেবল নিষিদ্ধই নয়, এটি নিশ্চিত মৃত্যুফাঁদ।’
তদন্তে জানা গেছে, এই চীনা পর্যটকরা কোনো স্বীকৃত ট্যুর অপারেটর ছাড়া নিজেরাই স্বতন্ত্রভাবে ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। নিয়ম অমান্য করে এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের মাধ্যমে হ্রদ পার হওয়াকেই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর গভর্নর সামাজিকমাধ্যমে আক্ষেপ করে জানান যে, এত বড় ট্র্যাজেডির পরও মানুষ শিক্ষা নিচ্ছে না। শুক্রবার ও শনিবার পৃথক দুটি ঘটনায় বরফে আটকে পড়া আরো ছয়জন পর্যটককে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। গত জানুয়ারিতেও একই এলাকায় গাড়ি উল্টে এক চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।