
X
জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক নিক্কেই ২২৫ গতকাল ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে টানা তিনদিনের দরপতনের অবসান ঘটিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতা কাটিয়ে স্থানীয় শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ায় এ উত্থান ঘটেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ২০০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে এশিয়ার বাজারে চাঙ্গা ভাব থাকলেও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের নজর ছিল এআই খাতের ভবিষ্যতের ওপর। এআই প্রযুক্তি শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং কোম্পানিগুলো এ খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে কিনা, তা নিয়ে এখনো এক ধরনের সংশয় কাজ করছে।
জ্বালানি তেলের বাজারে গতকাল কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ করা গেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দশমিক ২ থেকে দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে যথাক্রমে প্রতি ব্যারেলের দাম ৬৭ ডলার ৬০ সেন্টে এবং ৬২ ডলার ৫১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটন তাদের দীর্ঘদিনের পরমাণু বিরোধ নিরসনে প্রধান ‘নির্দেশনামূলক নীতিগুলোর’ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ খবরের ফলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমেছে, যা বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুদ্রাবাজারে নিউজিল্যান্ডের ডলারের মান দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৬০ সেন্টে নেমেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার ২ দশমিক ২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও জানিয়েছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে এ নমনীয় নীতি বজায় রাখা হতে পারে। ডলারের বিপরীতে সামান্য শক্তিশালী হয়েছে জাপানি ইয়েন। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের খরচ বাড়ায় আগামী তিন বছরে জাপানের বন্ড ইস্যুর পরিমাণ ২৮ শতাংশ বাড়তে পারে।
অন্যদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯২৬ ডলারে পৌঁছেছে এবং রুপার দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। ডলার সূচক ৯৭ দশমিক ২২-এ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের জানুয়ারি সভার কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় আছেন, যা থেকে সুদহারের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
এশিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। তবে শক্তিশালী এ চাহিদার মধ্যেই ভূরাজনৈতিক কারণে সরবরাহকারী দেশগুলোর তালিকায় বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উৎস বদলে ফেলছে। পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।
কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ আমদানিকারক অঞ্চল এশিয়ায় ফেব্রুয়ারিতে সমুদ্রপথে দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসতে পারে। দৈনিক ভিত্তিতে এটি এ যাবতকালের রেকর্ড সর্বোচ্চ আমদানি। এর আগে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও আমদানির পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এ বড় আকারের চাহিদার মূলে রয়েছে বিশ্বের প্রথম ও তৃতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ চীন ও ভারত।
তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এশিয়ার এ জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। ভারতের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট। কেপলারের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারত রাশিয়া থেকে মার্চে দৈনিক মাত্র ৫ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানি কমছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির পর রুশ জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।
রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি কমার সুবিধা পাচ্ছে সৌদি আরব। ভারতে সৌদি জ্বালানি তেলের আমদানি ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দৈনিক ১০ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। ২০১৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ আমদানির রেকর্ড। বাজার দখল ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো জ্বালানি তেলের অফিশিয়াল সেলিং প্রাইস (ওএসপি) ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে চীন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বড় অংকের মূল্যছাড় পাওয়ায় চীন রুশ জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে চীন রাশিয়া থেকে রেকর্ড ২০ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। ২০১৩ সালের পর চীন কর্তৃক রুশ জ্বালানি তেল আমদানির এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।