
X
সংগৃহীত ছবি
পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এ সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সুযোগ থাকে। হাদিসে বর্ণিত আছে, ইফতারের সময় বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু নির্দিষ্ট দোয়া ও আমল করতেন।
রমজানের মর্যাদা
মহান আল্লাহ বলেন—“রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।”
— কোরআন শরীফ, সূরা আল-বাকারা: ১৮৫
ইফতারের শুরুতে যে দোয়া পড়তেন
হজরত মুয়াজ ইবনে যুহরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার করার সময় এ দোয়া পড়তেন—
আরবি: أللّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلى رِزْقِكَ أفْطَرْتُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।
-(সুনানে আবু দাউদ)
ইফতারের পরের দোয়া
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ইফতার শেষে তিনি (সা.) বলতেন—
আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ
উচ্চারণ: জাহাবাজ-জামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উ’রুকু, ওয়া ছাবাতাল আঝরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে সাওয়াব স্থির হলো।
-(সুনানে আবু দাউদ)
ইফতারের আগে ইস্তিগফার
ইফতারের আগ মুহূর্তে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা উত্তম—
আরবি: اَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيْمَ الَّذِى لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি।
ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দোয়া
আরবি: اَلْحَمْدُ للهِ اَللّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিআত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরলি।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমি তোমার সর্বব্যাপী রহমতের উছিলায় তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—আমাকে ক্ষমা করে দাও।
-(ইবনে মাজাহ)
কারও ঘরে ইফতার করলে যে দোয়া
যদি কারও ঘরে মেহমান হয়ে ইফতার করা হয়, তবে এ দোয়া পড়া সুন্নত—
উচ্চারণ: আকালা ত্বাআমাকুমুল আবরারু, ওয়া সাল্লাত আলাইকুমুল মালায়িকাতু, ওয়া আফতারা ইংদাকুমুস সায়িমুন।
-(সুনানে আবু দাউদ)
অর্থ: সৎলোকেরা তোমাদের খাবার খেয়েছে, ফেরেশতারা তোমাদের জন্য দোয়া করেছে এবং রোজাদাররা তোমাদের কাছে ইফতার করেছে।
ইফতারের সময় করণীয়
• ইফতারের সঙ্গে সঙ্গে দোয়া পড়ে ইফতার শুরু করা
• খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করা (সুন্নত)
• ইফতারের আগে বেশি বেশি তাসবিহ, তাহলিল ও ইস্তিগফার কর।
ইফতারের পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা
ইফতারের মুহূর্ত রোজাদারের জন্য বিশেষ রহমতের সময়। এ সময় আন্তরিকভাবে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। তাই ইফতারের আগে ও পরে বিশ্বনবির (সা.) সুন্নত অনুসরণ করে দোয়া ও ইবাদতে মনোনিবেশ করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের ইফতারের সময়গুলো যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।