
X
সংগৃহীত ছবি
‘আদব’ অর্থ উৎকৃষ্ট রীতিনীতি, শালীন আচরণ ও উত্তম পদ্ধতি। ইবাদত-বন্দেগি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ﷺ যে আদর্শ ও পদ্ধতি নিজে অনুসরণ করেছেন এবং উম্মতকে অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তাই হলো ‘আদব’।
ইসলামে আদবের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এটি কোনো অতিরিক্ত বা আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়; বরং শরীয়তের বিধানসমূহের মৌলিক উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষত রোজার ক্ষেত্রে আদবের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু পানাহার ও স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকাই রোজার পূর্ণতা নয়—এগুলো রোজার বাহ্যিক কাঠামো। রোজার রূহ বা আত্মা হলো তার আদবসমূহ। আদব রক্ষা না করলে রোজার ফজিলত ও বরকত পূর্ণভাবে অর্জিত হয় না।
রোজার আদবসমূহ
দৃষ্টির হেফাজত
চোখকে সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে সংযত রাখা।
যেমন—বেগানা নারীর দিকে কুদৃষ্টি, অশ্লীল দৃশ্য, টিভি-সিনেমার অশোভন বিষয় দেখা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা।
জবানের হেফাজত
মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা, অশ্লীল কথা, ঝগড়া-বিবাদ ও কটু বাক্য পরিহার করা।
হাদীসে এসেছে—“যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগের কোনো মূল্য আল্লাহর কাছে নেই।”
— (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৩)
অন্য হাদীসে রাসূল ﷺ বলেন—“রোজা অবস্থায় তোমাদের কেউ যেন অশ্লীল বা মন্দ কথা না বলে এবং শোরগোল না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা আক্রমণ করে, তবে সে যেন বলে—আমি রোজাদার।”
— (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৪)
এ থেকে বোঝা যায়, রোজায় শুধু ঝগড়া নয়, অপ্রয়োজনীয় উচ্চস্বরে কথা বলা ও হৈচৈ করাও পরিহারযোগ্য। জবানকে যিকির, দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াতে ব্যস্ত রাখা উত্তম।
৩. কানের হেফাজত
গান-বাজনা, গীবত, পরনিন্দা ও অশ্লীল কথা শোনা থেকে বিরত থাকা।
৪. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সংযম
হাত, পা ও অন্যান্য অঙ্গকে গুনাহ ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখা।
৫. হালাল আহার গ্রহণ
সাহরি ও ইফতারে হারাম উপার্জিত বা সন্দেহযুক্ত খাদ্য পরিহার করা।
আবু হামিদ আল-গাজ্জালী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি সারাদিন রোজা রেখে হারাম সম্পদ দ্বারা ইফতার করল, সে যেন একটি অট্টালিকা নির্মাণ করে একটি শহর ধ্বংস করল।
৬. পানাহারে সংযম
ইফতার ও সাহরিতে অল্প ও পরিমিত আহার করা। অতিভোজন কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত করে এবং ইবাদতে দুর্বলতা আনে। সংযম রোজাকে শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করে।
৭. আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকা
রোজাদারের অন্তরে সর্বদা এ অনুভূতি জাগ্রত থাকা উচিত—আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা ও সর্বজ্ঞ। তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা হচ্ছে। এই চেতনা রোজাকে প্রাণবন্ত ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
এক মাস সঠিক আদব রক্ষা করে রোজা পালন করতে পারলে ইনশাআল্লাহ তাকওয়া, ধৈর্য ও আত্মসংযম অর্জিত হবে। এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রোজার আদবসমূহ যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন।
আমীন।