প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম (ভিজিট : ১০৫)

X
সংগৃহীত ছবি
পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-৪ সালে তৎকালীন সরকারের গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই শেষে খাকি পোশাক পরিবর্তন করে বর্তমান ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছিল। সে সময় সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া, দিন-রাতের ডিউটিতে সহজে চিহ্নিত হওয়া এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কোনো জনমত যাচাই ছাড়াই নির্বাচিত এই পোশাকের সঙ্গে ইউনিফর্মধারী অন্যান্য সংস্থার পোশাকের সাদৃশ্য রয়েছে, ফলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এ পরিবর্তনের পক্ষে নন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই দায়িত্ব পালন করেন এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে তাদের পেশাদারিত্ব দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
পোশাক পরিবর্তনকে ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন ইউনিফর্ম তৈরির চেয়ে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ, লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া বেশি যৌক্তিক হবে। তাদের মতে, পোশাকের রং বা নকশা নয়—পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা, মনোবল ও পেশাদারিত্বের উন্নয়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সদস্যদের আবেগ ও বাস্তব দিক বিবেচনায় নিয়ে আরও গবেষণা ও জনমত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।