
X
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেয়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সম্ভাব্য উপনির্বাচনে জিয়া পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রকাশিত তথ্যের পর স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আরও স্পষ্ট ও তীব্র হয়ে উঠেছে। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গ্রহণযোগ্যতা, সততা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবিই এখন বগুড়ার আদালতপাড়া, রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজের মূল আলোচ্য বিষয়।
এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের বড় একটি অংশ বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সিনিয়র আইনজীবী একেএম মাহবুবর রহমানকে আগামীর এমপি হিসেবে দেখতে চান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খালেদা জিয়া-এর আস্থাভাজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে লেশমাত্র দুর্নীতি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি পৌরসভা পরিচালনা করে স্বচ্ছ নগর ব্যবস্থাপনার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
বগুড়াবাসীর স্মৃতিতে রয়েছে, বিএনপি সরকারের সময় পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবেও তিনি নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাকে শুধু রাজনীতিক নয়, বরং ন্যায়নিষ্ঠ ও সাহসী আইনজীবী হিসেবেও মূল্যায়ন করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইন প্রণয়নের জায়গা জাতীয় সংসদে এমন বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজ্ঞের উপস্থিতি সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও তার অবস্থান ব্যতিক্রমী বলে মনে করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে তুখোড় আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম রেজাউল করিম মন্টুকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এটি তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও জনআস্থার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
মেয়র থাকাকালে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের উদাহরণও দিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রভাবশালী একটি পক্ষ অন্যায় সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে তার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালালেও তিনি কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেননি। এ ঘটনাকে বগুড়ার মানুষ এখনো একজন নীতিবান ও সাহসী জনপ্রতিনিধির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে সংরক্ষিত মহিলা সংসদীয় আসন নিয়েও একই ধরনের দাবি উঠেছে। স্থানীয় পেশাজীবী ও সচেতন মহলের মতে, সংসদ যেহেতু আইন প্রণয়নের কেন্দ্র, তাই নারী আসনেও অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লয়লা আরজুমান, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরাফাত জাহান নীলা এবং দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) এর স্পেশাল পিপি, সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবা খাতুন (সুখী)।
স্থানীয়দের মতে, সম্ভাব্য এসব প্রার্থী নির্বাচিত হলে বগুড়ার উন্নয়নে বাস্তবধর্মী উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। একেএম মাহবুবর রহমানের ক্ষেত্রে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট কমানো এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থাও তার অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
অন্যদিকে মাহবুবা খাতুন (সুখী) নির্বাচিত হলে নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা, আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে দ্রুত ও জনবান্ধব করার বিষয়ে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মসংস্থানমুখী নারী উন্নয়ন ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরার ক্ষেত্রে নারী শিক্ষা, স্বনির্ভরতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। গ্রামীণ নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো তার অগ্রাধিকার হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
অ্যাডভোকেট আরাফাত জাহান নীলার ক্ষেত্রে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে উন্নয়নের ভারসাম্য নিশ্চিত করাও তার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনজীবী মহলের অভিমত, বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদে গেলে আইন প্রণয়ন হবে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। এই কারণে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে আইনজ্ঞ প্রার্থীদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।