যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়

অনলাইন ডেস্ক

ধর্ম

সিয়াম বা রোজা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা জরুরি। নির্দিষ্ট কিছু কারণে

2026-02-24T16:11:26+00:00
2026-02-24T16:11:26+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১১ পিএম   (ভিজিট : ৭১)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

সিয়াম বা রোজা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা জরুরি। নির্দিষ্ট কিছু কারণে রোজা ভেঙে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ পানাহার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকাই হলো রোজা।

তবে অনিচ্ছাকৃত ভুল বা অজ্ঞতাবশত এমন কিছু কাজ হয়ে যায়, যার ফলে রোজা ভেঙে যায়। একজন মুমিনের জন্য রোজা নষ্ট হওয়ার কারণ জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করা
রোজার প্রধান শর্ত হলো পানাহার বর্জন করা। রোজা রাখা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়। তবে ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেললে এবং মনে পড়ার সাথে সাথে তা বন্ধ করলে রোজা নষ্ট হয় না।

২. স্ত্রী সহবাস বা যৌন মিলন
রোজারত অবস্থায় দিনের বেলা স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। এ ক্ষেত্রে কেবল কাজা (একটি রোজা) আদায় করলে হয় না, বরং কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা) আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

৩. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা
যদি কেউ মুখ ভরে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অসুস্থতার কারণে বমি হয়, তবে রোজা নষ্ট হবে না।

৪. নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করানো
নাক দিয়ে তরল ওষুধ বা তেল যদি পেটে পৌঁছে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। একইভাবে কানের পর্দা ছিদ্র থাকলে এবং সেখান দিয়ে ওষুধ ভেতরে প্রবেশ করলেও রোজা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৫. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার খাওয়া
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় কোনো খাবার যদি জিহ্বা দিয়ে বের করে গিলে ফেলা হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে।

৬. ধূমপান বা ইচ্ছাকৃত ধোঁয়া গ্রহণ
বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা বা আগরবাতির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ফুসফুসে টেনে নিলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। ধূমপান কেবল স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, এটি রোজা ভঙ্গেরও একটি অন্যতম কারণ।

৭. ঋতুস্রাব বা হায়েজ-নিফাস
রোজা থাকা অবস্থায় যদি কোনো নারীর মাসিক বা ঋতুস্রাব শুরু হয়, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। পরবর্তীতে এই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।

৮. পুষ্টিবর্ধক ইনজেকশন বা স্যালাইন
সাধারণ অসুস্থতার ইনজেকশনে রোজা ভাঙে না, তবে যদি এমন ইনজেকশন বা স্যালাইন নেওয়া হয় যা খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে শক্তি যোগায়, তবে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে।

সতর্কতা ও করণীয়
কাজা : রোজা ভেঙে গেলে রমজানের পরে একটির পরিবর্তে একটি রোজা রাখা।

কাফফারা : ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাঙলে নির্দিষ্ট মেয়াদে জরিমানা বা ধারাবাহিক রোজা রাখা।
রোজা কেবল উপবাস থাকা নয়, এটি তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যম। তাই ছোটখাটো ভুল এড়িয়ে চলে সঠিক নিয়মে রোজা পালন করা আমাদের দায়িত্ব।





Loading...
Loading...


ধর্ম এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy