
X
বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলাটি ১২ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। তার মাঝে প্রায় ৫ ইউনিয়নের অবস্থান দুর্গম চরে। চরের জীবনে কৃষি কাজ ছারা আর কোন কাজ করার সুযোগ নেই। তাই কাজের সন্ধানে চরের ইউনিয়নগুলোসহ প্রায় সকল ইউনিয়নের মানুষ পৌরসভা এলাকায় বসবাস করে। তারা প্রায় সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। নিম্ন আয়ের এ মানুষগুলোর জীবন চালোনো খুবই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
উর্ধ্বমুল্যর বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য পণ্য নেওয়ার স্বস্তির জায়গা "খোলা বাজারে খাদ্য শস্য বিক্রি"(ওএমএস) কিন্তু সারিয়াকান্দি উপজেলায় এ বরাদ্দ বছরে থাকে কয়েক মাস। এর ফলে যারা ওএমএসের উপর নির্ভরশীল তারা হঠাৎ করেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন দিন মজুর, রিকশা চালক, গৃহকর্মীসহ স্বল্প আয়ের মানুষ। একারনে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন চালোনো খুবই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
জানাযায়, সারিয়াকান্দি পৌরসভা এলাকায় ৬ টি ডিলারের মাধ্যমে (ওএমএস) এর মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রি করা হতো। সারিয়াকান্দি পোরসভায় ৯ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩ টিতে (ওএমএস) এর কোনো ডিলারই নেই। সারিয়াকান্দি পৌরসভা শ্রমঘন এলাকা হলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় নিম্ন-আয়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সারিয়াকান্দি খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানাযায়, খোলা বাজারে খাদ্য শস্য বিক্রি (ওএমএস) দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো সাধারণ বরাদ্দ যা সপ্তাহের প্রতিদিন চলবে সরকারী বন্ধের দিন বাদে। আরেকটি হলো বিশেষ বরাদ্দ যা প্রতি বছর কয়েক মাস চলে।
সারিয়াকান্দি উপজেলাটি বিশেষ বরাদ্দের আওতাধীন। এই কারনে গত বছর ৫ মাস চাল ও দুই মাস আটা বিতরণ করা হয়েছে। তারপর এবছর জানুয়ারি মাস থেকে ৬ ডিলারকে ১ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা এমাস চলমান থাকবে। এবরাদ্দ চাহিদার তুলনায় একদমি অপ্রতুল এ মাসের পর এই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে। আবার কোন বিশেষ বরাদ্দ এলে পুনরায় চালু করা হবে।
আরও জানাযায়, "খোলা বাজারে খাদ্য শস্য বিক্রির" চাহিদা পৌরসভা এলাকায় সারা বছর থাকে। কারন এখানে বিভিন্ন এলাকার লোক বসবাস করে কর্মের কারনে। এখানে সারা বছর এই বরাদ্দটি চালু রাখতে পারলে সব থেকে বেশি লাভবান হতো এ এলাকার বাসিন্দারা। এ রকম বরাদ্দ জেলার আর দুইটি উপজেলায় চালু রয়েছে একটি কাহালু ও অন্যটি শিবগন্জ উপজেলায়৷
উপজেলার একাধিক ওএমএস ক্রেতা বলেন, ওএমএসের চাল ও আটা কিনে কোনো রকমে সংসার চালাই। এখন কয়েক মাস হলো সেই চাল ও আটা দেওয়া বন্ধ। কবে যে আবার চালু হবে? খোলা বাজারে চাল বা আটা কিনলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যায়। আমাদের কথা কেউ ভাবছে না। বাজারে চাল ও আটার দাম প্রায় দ্বিগুণ। প্যাকেট আটার দাম তো প্রায় তিনগুণ। ভুক্তভোগী হতদরিদ্রদের দাবি, ক্ষুধার কাছে সব সমস্যা নিরর্থক। তারা দ্রুত সারিয়াকান্দি পৌরসভায় ওএমএস কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।
সারিয়াকান্দি পৌরসভার ওএমএস ডিলার মোজাফফর বলেন, ওএমএসের ব্যাপক চাহিদা। চাল ও আটার চাহিদা থাকে তুঙ্গে তবে বিশেষ করে আটার চাহিদা বেশি। তবে এখন বরাদ্দ না থাকায় আমরা দিতে পারছি না। জনগনের ভালোর জন্য হলেও অতি তাড়াতাড়ি এ উপজেলার পৌরসভাটি সাধারন বরাদ্দের আওতায় নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সাইফুল কবির খান বলেন, সারিয়াকান্দি নদী বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখনে দরিদ্র মানুষের বসবাস বেশি। আমি আমার উর্ধ্বধন কর্তৃপক্ষকে জানাবো যাতে এখামে একটি সাধারণ বরাদ্দের ব্যাবস্হা করা যায়।
বগুড়া -১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, (ওএমএস) এ বরাদ্দ যে আমার এলাকায় সারা বছর পায়না সম্পর্কে আমাকে কেউ জানায়নি। সারিয়াকান্দি সোনাতলা চরাঞ্চল ও দরিদ্র এলাকা এখানকার মানুষ যাতে সাধারণ বরাদ্দ পায় সেই ব্যাবস্হা করা হবে। এই বরাদ্দ অবশ্যই এ এলাকার মানুষ পাবে।