
X
পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার সাকলাইন মুশতাক
ক্রিকেট মাঠের জয়-পরাজয়ে কখনও কখনও মিশে থাকে ক্রিকেটের চেয়েও বেশি কিছু। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের পরাজয়ে তেমন কিছুই দেখছেন সাকলাইন মুশতাক। পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনারের মতে, উড়তে থাকা ভারতীয়দের মাটিতে নামিয়ে এনে অপমানিত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা।
টি২০ বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচটির আগ পর্যন্ত এই সংস্করণে ভারতকে মনে হচ্ছিল অপ্রতিরোধ্য। গত বিশ্বকাপের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলটি বিশ্বকাপের পর থেকেও ছিল অসাধারণ ফর্মে। ওই বিশ্বকাপের পর থেকে এই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত ৪৫ ম্যাচের মধ্যে স্রেফ ৬টিতে হেরেছিল তারা। ক্রিকেটে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এমন ধারাবাহিকতা বিস্ময়কর।
বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত চলছিল সেই ধারা। গ্রুপের সব ম্যাচ তারা জিতেছে, সবচেয়ে বড় ম্যাচটিতে পাকিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি।
কিন্তু সুপার এইটে প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়েছে তারা প্রবলভাবে। আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটে-বলে পর্যদুস্ত হয়ে ম্যাচ হেরেছে তারা ৭৬ রানে। বিশ্বকাপের ১০ আসর মিলিয়ে যা তাদের সবচেয়ে বাজে হার। টি২০ ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরাজয়।
পাকিস্তানের একটি টিভিতে আলোচনায় সাকলাইন বললেন, এই ম্যাচে ভারতকে পুরোপুরি অপদস্থ করে ছেড়েছে প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার সব পরিকল্পনা এই ম্যাচে কাজে লেগেছে। সত্যি বলতে ভারতকে মাটিতে আছড়ে ফেলেছে তারা এবং তুলাধুনা করেছে ও অপমানিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত যতটুকুই উড়ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকা তাদেরকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই তাদের পরিকল্পনা ছিল দুর্দান্ত।”
ম্যাচ হারার পাশাপাশি ভারতের রান রেট এই ম্যাচে এত বড় ধাক্কা খেয়েছে যে, এক ম্যাচ হেরেই তাদের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে ঝাপসা। পরের দুই ম্যাচ জিতলেও তাদেরকে নির্ভর করতে হতে পারে অন্যদের পারফরম্যান্সের ওপর। পরের ম্যাচে চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়বে তারা বৃহস্পতিবার, কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ম্যাচ রোববার।
ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলংকা-এই তিন দলের কেউই যদি সেমিফাইনালে না পৌঁছায়, তবে সুপার এইটের গ্রুপ-১ এর শীর্ষ দল কলকাতায় গ্রুপ-২ এর দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে। আর গ্রুপ-২ এর শীর্ষ দল মুম্বাইতে লড়বে গ্রুপ-১ এর রানার্সআপ দলের সঙ্গে।
উল্লেখ্য, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান উভয় দলই সুপার এইটের গ্রুপ-২ এ থাকায় তাদের মধ্যে সেমিফাইনাল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
গত নভেম্বরে ঘোষিত সূচির তুলনায় বর্তমান এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় পরিবর্তন বা স্পষ্টীকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তখন কেবল পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল শ্রীলংকায় হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল, কিন্তু স্বাগতিক শ্রীলংকা নকআউটে পৌঁছালে কী হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। নতুন এই নির্দেশনায় লঙ্কান দর্শকদের জন্য নিজেদের মাঠে প্রিয় দলের খেলা দেখার সম্ভাবনা তৈরি হলো।