
X
অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকট মোকাবিলা এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর এর সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং সহ-সভাপতি জনাব মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা ও দরপতন, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক শিল্প বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি, ভাষা দিবস প্রভৃতি কারনে ২৮ দিনের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদন কার্যদিবস মাত্র ১৯ দিনে নেমে এসেছে। এতে করে নিয়মিত শিপমেন্ট বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কারখানাগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়তে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিএমইএ নেতারা মাননীয় গভর্ণরের নিকট নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।
• বকেয়া নগদ সহায়তা ছাড়: বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এখনো প্রায় ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। এই অর্থ দ্রুত ছাড় করা হলে কারখানাগুলোর তারল্য সংকট নিরসন হবে।
• নগদ সহায়তা ছাড়ের ক্ষেত্রে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান: বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বিশেষভাবে বিজিএমইএ কর্তৃক প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ছাড় করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
• মজুরি সহায়তা ঋণ: আসন্ন ঈদুল ফিতরে বেতন-বোনাস প্রদানের সুবিধার্থে বিশেষ বিবেচনায় ২ মাসের মজুরির সমপরিমাণ অর্থ ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ড সহ ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দিয়ে ঋণ সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
• নীতি সহায়তা: প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) আওতায় পুনরায় ঋণ সহায়তা চালু করা ও সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা; এবং প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল ৫,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা।
বিজিএমইএ নেতারা গভর্ণর মহোদয়কে অবহিত করেন যে, সময়মতো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করা শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। তারা বলেন, জাতীয় অর্থনীতির প্রধান এই খাতকে প্রতিকূলতা থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ একান্তভাবে কাম্য। তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তা এই সংকটকালীন সময়ে শিল্প, শ্রমিক এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
মাননীয় গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বিজিএমইএ নেতাদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং পোশাক শিল্পের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন।
তিনি বিজিএমইএ নেতাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে পোশাক কারখানাগুলোর, বিশেষ করে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ সহায়তার অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ছাড় করা এবং আসন্ন ঈদে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কারখানাগুলোর তারল্য সংকট দূর করতে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ব্যক্ত করেন।