এক কার্ডেই মিলবে রাষ্ট্রীয় সব সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

উন্নত বিশ্বের আদলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সামাজিক পরিচিতি কার্ড’ বা ‘সোশ্যাল আইডি কার্ড’ দিতে যাচ্ছে সরকার। সেই

2026-02-25T14:47:56+00:00
2026-02-25T14:47:56+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
এক কার্ডেই মিলবে রাষ্ট্রীয় সব সুবিধা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম   (ভিজিট : ২১৩)
X

উন্নত বিশ্বের আদলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সামাজিক পরিচিতি কার্ড’ বা ‘সোশ্যাল আইডি কার্ড’ দিতে যাচ্ছে সরকার। সেই কার্ডের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন কার্ডধারীরা। প্রাথমিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে এটি চালু হলেও ভবিষ্যতে তা সামাজিক পরিচিতি কার্ডে রূপ নেবে। টিসিবি, ওএমএস কার্ডসহ অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির সুবিধা মিলবে ফ্যামিলি কার্ডেই।

কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে নগদ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। এ ছাড়া ওই কার্ড দিয়েই স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। চলতি বছর দেশের হতদরিদ্র ও অসচ্ছল অন্তত দুই কোটি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই কার্ড ২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে।

‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন রবিবার বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। এ কার্ড বিতরণে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে। কার্ডধারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে এবং সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ভিন্নতা থাকবে।

সমাজের একদম নিচের তলার মানুষ যেন রাষ্ট্রের এ সহায়তা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, সেদিকটিই কঠোর নজরদারি করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। অতীতে এ ধরনের কর্মসূচিতে যেসব ত্রুটি ছিল, সেগুলো দূর করে একটি আধুনিক ও কার্যকর ডেটা বেইস তৈরির কাজ চলছে।’ 

প্রসঙ্গত, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঈদের আগে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আট বিভাগের ১৪টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হবে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভার একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

এরই মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর এসংক্রান্ত একটি বাস্তবায়ন নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। সেখানে উন্নত বিশ্বের আদলে সোশ্যাল আইডি কার্ড প্রদান করা হবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডকে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সোশ্যাল আইডি কার্ড’ বা ‘সামাজিক পরিচিতি সনদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। উন্নত দেশগুলোর ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার’ (এসএনএন) ব্যবস্থার মতো এই কার্ডটি হবে। এই আইডি কার্ডে প্রতিটি নাগরিকের এবং তার পরিবারের সব তথ্য (যেমন- রক্তের গ্রুপ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয় এবং পারিবারিক সদস্য সংখ্যা) এনক্রিপ্টেড অবস্থায় থাকবে। এটি শুধু ভাতার জন্য নয়, বরং সরকারি সব নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘একক প্রবেশদ্বার’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডটি শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে নাগরিকের অর্থনৈতিক অবস্থায় কোনো বিপর্যয় এলে (চাকরি হারানো, আকস্মিক অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা) রাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ডেটা বিশ্লেষণ করে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে। এই কার্ডের মাধ্যমেই প্রতিটি নাগরিক তার প্রাপ্য সরকারি সব নগদ অর্থ সহায়তা, স্বাস্থ্যবীমা, শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি এবং বয়স্ক ভাতা বা পেনশন গ্রহণ করবে। নাগরিককে ভিন্ন ভিন্ন সেবার জন্য আলাদা দপ্তরে যেতে হবে না। ফ্যামিলি কার্ডের ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে অ্যাপ বা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমেই সেসব সুযোগ-সুবিধা তদারকি ও গ্রহণ করা যাবে। এই সোশ্যাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে একজন নাগরিকের জীবনের প্রতিটি স্তরের (গর্ভাবস্থা থেকে বার্ধক্য) তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে। যেমন- একজন শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা শেষ করবে তখন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার উপবৃত্তি বন্ধ করে তাকে কর্মসংস্থানের ‘স্কিল ট্রেনিং’ উইন্ডোতে নিয়ে যাবে এবং বয়স ৬৫ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে প্রবীণ নাগরিক হিসেবে সব সুবিধা প্রদান শুরু করবে।

এতে আরো বলা হয়, ২০২৬ সালের এই রূপকল্পে রাষ্ট্রের সব খণ্ডিত সুবিধাভোগী কার্ডকে একটিমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের ডেটা যাচাই-বাছাই করে নতুন ফ্যামিলি কার্ডের ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (ডিএসআর) এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে টিসিবির খাদ্য সহায়তা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের নগদ ভাতা একই কার্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এনআইডি এবং জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য রিয়েল টাইমে যাচাই করা হবে, যা ভুল মানুষ নির্বাচনের ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনবে। প্রতিটি পেমেন্ট সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কার্ডধারী নারীর অ্যাকাউন্টে বা মোবাইল ওয়ালেটে পৌঁছে যাবে, যা দুর্নীতিমুক্ত বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে, যা প্রায় ২৩টি আলাদা মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর ফলে প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ে এবং কার্যক্রমের গতিশীলতা ব্যাহত হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বা অস্বচ্ছতার কারণে প্রকৃত দরিদ্রদের একটি বড় অংশ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছে। সচ্ছল পরিবারের অন্তর্ভুক্তির হারও উদ্বেগজনক। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার প্রায় ২২ শতাংশ সুবিধা ভোগ করে উচ্চবিত্ত বা সচ্ছল পরিবারসমূহ। কেন্দ্রীয় ডেটা বেইসের অভাবে একজন ব্যক্তি একাধিক মন্ত্রণালয় বা কর্মসূচি থেকে সুবিধা গ্রহণ করছেন, অথচ পাশে থাকা অন্য একটি অতিদরিদ্র পরিবার কিছুই পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী পর্যন্ত অর্থ পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং কমিশন বা ঘুষ প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায়, যা দরিদ্র মানুষের প্রাপ্য অধিকার ক্ষুণ্ন করে। এ ছাড়া বর্তমানে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বা অন্যান্য বিশেষ কার্ড থাকলেও সেগুলোতে তথ্য ভেরিফিকেশনের পর্যাপ্ত অভাব রয়েছে এবং এগুলো ভাতার ডেটা বেইসের সঙ্গে সংযুক্ত নয়।




  বিষয়:   কার্ড  রাষ্ট্রীয় সুবিধা  ফ্যামিলি কার্ড  সামাজিক পরিচিতি কার্ড  সোশ্যাল আইডি কার্ড  সরকার 



Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy