
X
আগামী ১০ মার্চ থেকে দেশব্যাপী পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি (Family Card Program)। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।
কারা পাবেন কার্ড?
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তার আওতায় আনা। নীতিমালায় সুনির্দিষ্টভাবে ৭ শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার (Priority List) দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ৭ শ্রেণির তালিকা
১. ভূমিহীন (Landless) ব্যক্তি বা পরিবার।
২. গৃহহীন (Homeless) মানুষ যাদের নিজস্ব বাসস্থান নেই।
৩. প্রতিবন্ধী সদস্য (Family with Disabled Member) রয়েছে এমন পরিবার।
৪. হিজড়া (Third Gender/Hijra) সম্প্রদায়ের সদস্যগণ।
৫. বেদে (Bede Community) বা যাযাবর গোষ্ঠী।
৬. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার (Ethnic Minority Families)।
৭. স্বল্প জমির মালিক (Small Landowners) যাদের জমির পরিমাণ ০.৫ একর বা তার কম।
সরকার মনে করছে, একটি পরিবারকে কার্ডের আওতায় আনলে সেই পরিবারের সকল সদস্যের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) নিশ্চিত হবে। এই নীতিমালাটি খুব শীঘ্রই প্রজ্ঞাপন (Official Gazette) আকারে জারি করা হবে। ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড: গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ডে অগ্রাধিকার পাবেন কারা?
উত্তর: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার, হিজড়া, বেদে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার এবং ০.৫ একর বা তার কম জমির মালিকরা এই কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কবে শুরু হবে?
উত্তর: আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক (Piloting) কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করার নিয়ম কী?
উত্তর: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার নির্ধারিত বুথ অথবা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও পারিবারিক তথ্যের প্রয়োজন হবে।
প্রশ্ন: একটি পরিবারে কয়টি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে?
উত্তর: নীতিমালার মূল দর্শন হচ্ছে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। তাই প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি মাত্র ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে।
প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
উত্তর: এই কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খাদ্যসামগ্রী (রেশন), সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন ভাতা এবং সরকারি অন্যান্য আর্থিক সহায়তা সরাসরি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ডের অযোগ্য কারা বা কারা এই কার্ড পাবেন না?
উত্তর: সাধারণত সরকারি চাকরিজীবী, উচ্চবিত্ত, বড় জমির মালিক এবং যারা ইতিমধ্যে বিশেষ কোনো বড় সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, তাদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না (চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ৬টি শ্রেণির কথা উল্লেখ থাকবে)।
প্রশ্ন: এই কার্ড কি সারাদেশে একসাথে দেওয়া হবে?
উত্তর: না, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হবে। পরবর্তীতে সফলতার ভিত্তিতে এটি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন: ০.৫ একর জমির মালিক বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: যাদের মোট আবাদি বা বসতভিটার জমি ৫০ শতাংশ বা এর কম, তারা এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এটি প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা কীভাবে যাচাই করা হবে?
উত্তর: স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করে এবং ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহার করে প্রকৃত অভাবীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ড ও টিসিবি কার্ড কি একই?
উত্তর: না। টিসিবি কার্ড মূলত নির্দিষ্ট কিছু পণ্য স্বল্পমূল্যে কেনার জন্য। কিন্তু নতুন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, যেখানে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আরও নানা সুযোগ-সুবিধা থাকতে পারে।