সৈয়দপুর কারখানায় চাকার অভাবে শতাধিক ট্রেনকোচের মেরামত বন্ধ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল কারখানায় চাকা সংকটের কারণে মেরামত না করতে পারায় শতাধিক ট্রেনকোচগুলো কারখানার ইয়ার্ডে খোলা জায়গায় দীর্ঘদিন

2026-02-27T18:00:28+00:00
2026-02-27T18:00:28+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সৈয়দপুর কারখানায় চাকার অভাবে শতাধিক ট্রেনকোচের মেরামত বন্ধ
যাত্রীসেবা বিঘ্নের আশঙ্কা
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০০ পিএম   (ভিজিট : ১৪৩)
X


নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল কারখানায় চাকা সংকটের কারণে মেরামত না করতে পারায় শতাধিক ট্রেনকোচগুলো কারখানার ইয়ার্ডে খোলা জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। 

এতে একদিকে যেমন কারখানায় ক্যারেজ মেরামতের প্রতিদিনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি কোটি-কোটি টাকা মূল্যের কোচগুলো খোলা জায়গায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ব্রডগেজ লাইনের ঢাকা থেকে ভিন্ন-ভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন আন্ত:নগর ট্রেনের কোচ। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, আমদানি নির্ভর হওয়ায় দরপত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই রেল ইয়ার্ডে চাকার অভাব দেখা দিয়েছে। এতে মেরামতযোগ্য কোচগুলোও মেরামত করা যাচ্ছে না। ফলে আসন্ন ঈদযাত্রায় ট্রেনসেবা বিঘœ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা যায়, যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দেওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আন্ত:নগর ট্রেনের দুই শতাধিক কোচ মেরামতের জন্য প্রায় ৬ মাস আগে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয়। এগুলোর মধ্যে ১০০টির বেশি কোচের শুধু চাকার সমস্যা। চাকা পরিবর্তন করলেই আবার সচল হবে। কিন্তু কারখানাটিতে নতুন চাকার সরবরাহ নেই বেশ কয়েক বছর থেকে। আর মজুত চাকাও শেষ হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এ কারণে কোচগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। সেগুলো বর্তমানে কারখানার ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেনগুলোতে প্রয়োজনীয় কোচের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ব্রডগেজ কোচগুলোর ক্ষেত্রে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। 

সরেজমিনে সংবাদকর্মীরা গেলে দেখা যায়, কোচগুলো কারখানার ইয়ার্ডে পড়ে থাকায় এগুলোতে মরিচা ধরে গেছে। আশপাশে আগাছা গজিয়েছে। কোচগুলোর ভেতরের অবস্থাও নাজুক।

রেলওয়ে কারখানার বগি শপের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী শাহিনুর আলম শাহ জানান, ট্রেনের বগিগুলো স্থাপন করা থাকে ট্রলির ওপর। এই ট্রলি স্থাপন করা হয় চাকার ফ্রেমে। প্রতিটি কোচে চার জোড়া চাকা থাকে, এরমধ্যে থাকে স্প্রিং এবং সূ² কিছু যন্ত্রাংশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ে কারখানার প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ‘অচল হয়ে পড়ে থাকা কোচগুলো ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন থেকে আমদানি করা। এগুলো আনার পর একই সঙ্গে বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজিত করে চালানো হয়েছে। ওই কোচগুলো আমদানির পর থেকে আর চাকার পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে এগুলোর চাকার সমস্যা একই সময়ে দেখা দিয়েছে।’ ওই প্রকৌশলী আরও জানান, ‘ট্রেনের খুলে রাখা ওই কোচগুলোর সব চাকাই পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো বদলাতে হবে। রেলওয়ের কোচের এসব চাকা আমদানি নির্ভর। কিন্তু দরপত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে রেল-কারখানায় চাকাসহ কিছু যন্ত্রাংশের অভাব দেখা দিয়েছে। এ কারণে কোচগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না।’

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত¡াবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, প্রতি দু’দিনে তিনটি যাত্রীবাহী ও তিনটি মালবাহী কোচ মেরামতে সক্ষম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংকটের কারণে যথাসময়ে এখন এগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভর যন্ত্রাংশের খুবই সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে আমাদের চাহিদামাফিক আউট টার্ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে।’ এসব সমস্যা সমাধানে রেলওয়ের উর্দ্ধতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। 






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy