
X
অন্তর্বর্তী সরকারের বড় বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে নয়, বরং কেবিনেটের বাইরে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছে সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, যারা ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাদের মতামত সাধারণত ছোটখাটো বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকত।
দায়িত্ব ছাড়ার পর বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা দ্বিমত করেছি, সেগুলো ছোটখাট বিষয় ছিল। যেমন সূচি বাদ দেওয়া ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে হতো না। এগুলো কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো।’
তিনি বলেন, সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে- এমন মন্তব্য তিনি শুনেছেন। তবে সেখানে কারা ছিলেন, তা তিনি জানেন না।
‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, আমি সেখানে ছিলাম না’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো ওই মনোভাবের লোক আমি ছিলাম না। তারা ধরে নিয়েছে, আমি তাদের সঙ্গে একমত হতে পারব না। যারা এসব করেছে, তারা পরিচিত। আমি শুধু নাম শুনেছি। তারা আমার সহকর্মী ছিলেন।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশের পুনর্গঠনই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। তার ভাষ্য, সে সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে, পুলিশ মাঠে নামতে চাইছিল না। অনেক থানা লুট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে অনেক বোঝাপড়ার মাধ্যমে পুলিশ মাঠে নামে। ট্রাফিক পুলিশও দাঁড়াতে চাইছিল না। তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়।’
তিনি জানান, সে সময় প্রায় চার হাজার রাইফেল লুট হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু উদ্ধার করা গেলেও প্রায় এক হাজারের বেশি রাইফেল ও পিস্তল তখনও নিখোঁজ ছিল। তার মতে, এসব অস্ত্র বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি।
৭.৬২ বুলেট ও অস্ত্র বিতর্ক
৭.৬২ বুলেট ও চাইনিজ টাইপ-৩৯ রাইফেল প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টির এখনও সমাধান হয়নি। তিনি জানান, আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু ব্যক্তি পুলিশের রাইফেল নিয়ে গুলি চালাচ্ছে।
‘এগুলো খুব মারাত্মক অস্ত্র, যা সাধারণত সমরাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পুলিশের কাছে এসব থাকার কথা নয়’ বলেন তিনি।
সেসময় কেন দায়িত্ব ছাড়লেন?
কেন তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো- এ বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সে সময় তিনি কিছু বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা তখনকার প্রেক্ষাপটে সঠিক মনে হয়নি।
‘আমি যে কথাটা বলেছিলাম, তা খণ্ডিতভাবে গণমাধ্যমে এসেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি খারাপ হয়েছে’ বলেন তিনি।
তিনি জানান, নিজে দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তখন তাকে অনুমতি দেননি।
তার ভাষায়, ‘৭–৮ দিনের মধ্যে চলে গেলে খারাপ বার্তা যাবে- এই কথা বলে আমাকে তখন থাকতে বলা হয়েছিল।’