
X
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে শেষ সময়ের প্রস্তুতি সারছেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা- বাফুফে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নতুন দেশ, ভিন্ন কন্ডিশন আর অচেনা আবহাওয়া-সব চ্যালেঞ্জ জয় করে মাঠের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সদস্যরা। সিডনির তপ্ত রোদ আর হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এখন নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন আফঈদা-প্রীতিরা। আগামীকাল রোববার (১ মার্চ) পর্দা উঠছে নারী এশিয়ান কাপের ২১তম আসরের। তবে আগামী ৩ মার্চ মঙ্গলবার থেকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের মূল মিশন শুরু হবে।
সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে কঠোর অনুশীলনের মাঝে শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের রোমাঞ্চের কথা জানিয়েছেন উদীয়মান ফরোয়ার্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতি। বয়সভিত্তিক ফুটবলে গোলবন্যা ছুটিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া প্রীতির জন্য এটি এক বিশাল সুযোগ।
এশিয়ান কাপের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোকে ‘স্বপ্ন সত্যি হওয়া’র মতো মনে করছেন তিনি। প্রীতি বলেন, “প্রথমবার বাংলাদেশ এত বড় মঞ্চে খেলছে, এটা ভেবেই খুব ভালো লাগছে। সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য অবদান রাখতে চাই।
মাঠের লড়াই শুরুর অবশ্য খুব দেরি নেই। মঙ্গলবার চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ওমেন্স এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের পথচলা শুরু করবে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো এশিয়ার নারী ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে খেলার হাতছানিতে স্বাভাবিকভাবেই রোমাঞ্চিত খেলোয়াড়রা।
অনুশীলনে ঘাম ঝরানোর পর দলের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে আসা সুরভি আকন্দ প্রীতির কণ্ঠেও এর স্পষ্ট ফুটে উঠল। তিনি বলেন.‘ যদি আমি খেলার সুযোগ পাই, আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। এই প্রথমবার বাংলাদেশ এত বড় একটা মঞ্চে আসছে, খেলবে, তো এটা ভালো লাগারই কথা। কাজ তো হচ্ছেই, সব দিক দিয়েই অনুশীলন সেশনে যা আমাদের ভুল-ত্রুটি হয় সেটা ধরিয়ে দেন আমাদের, তো ওইটা শুধরানোর চেষ্টা করি আমরা।’
আর এই ভালো লাগাটুকু মাঠের লড়াইয়ে অনুবাদ করতে মুখিয়ে মেয়েরা। প্রীতিও বললেন,‘ সিডনি ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ম্যাচের পরের অনুশীলনে খুটিয়ে খুটিয়ে তাদের চর্চা পরখ করছেন কোচ। আলহামদুলিল্লাহ ভালো (প্রস্তুতি হচ্ছে), সবকিছু মিলিয়ে। এখানে আসার পর আমরা একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলছি, তো ওখানে যা ভুল-ত্রুটি হয়েছে, কোচ আমাদের সেটা নিয়ে দুটি ট্রেনিং সেশন করিয়েছেন, ওখানে শুধরাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ওই ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে (১-১ ড্র হয়েছিল ম্যাচটি)। আমরা ভালো করেছি, ওরাও তো শক্তিশালী দল।’
ফিজিও ইস্যুতে কিছুটা ছন্দপতনের কবলে পড়েছিল দল। নিয়মিত ফিজিও লাইজু ইয়াসমিন লিপা ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে দায়িত্ব পড়েছিল জাকিয়া রহমানের কাঁধে। তিনিও এপেনডিসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ায় কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। ফিজিও ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া এসে ঝামেলায় পড়েছিল দল। এ নিয়ে খোদ বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালও উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ফিজিও ইসনাদ জামকনকে দিয়ে সেই শূণ্যতা পূরণ করেছে বাংলাদেশ।
নতুন ফিজিওর সাথে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে না বলে জানালেন প্রীতি,‘ মানিয়ে নিতে কোনো কষ্ট হচ্ছে না। এখানে হচ্ছে, আমাদের ফিজিও তো ছিলেন, তো উনি (জাকিয়া রহমান) অসুস্থ হয়ে গেছেন একটু, তো ওনার সার্জারি হয়েছে, তো সে জন্য আসতে পারেন নাই। তো এখানকার ফিজিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো, সবাই মানিয়ে নিতে পারছি।”
দেশটির কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়াই মূল লক্ষ্য। এর মধ্েযই একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে দল। সেখানে যে ভুল-ত্রুটিগুলো কোচের নজরে পড়েছে, সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে আঁটঘাট বেঁধে। জুবিলি স্টেডিয়ামে শনিবারের অনুশীলনে এ দিকটায় বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন পিটার জেমস বাটলার।