প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১:২৭ পিএম (ভিজিট : ২৪৫)

X
সংগৃহীত ছবি
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিয়া মুসলিম শিক্ষায় দক্ষ এবং কওমে নগরে ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।
খামেনি ১৯৬২ সালে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংগঠিত করতে সহায়তা করেন।
১৯৮১ সালে তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন এবং ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং আট বছর ধরে এই পদে ছিলেন।
১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর ধর্মীয় আলেমদের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাঁকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে। সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় যাতে তিনি “আয়াতুল্লাহ” পদ অর্জন করে সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী পদ বিলুপ্ত করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা বাড়ানো হয়।
খামেনি আজও ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সর্বোচ্চ প্রভাবশালী। তার শাসনামলে ছয়জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৭-২০০৫ সালে মোহাম্মদ খাতামি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিলেও খামেনি এসব কার্যক্রমে বাধা দেন।
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ প্রশাসন চলাকালীন অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
২০০৯ সালে বিতর্কিত নির্বাচন এবং তৎপরবর্তী বিক্ষোভ দমন করার নির্দেশ দেন। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হলে প্রতিশোধের ঘোষণা দেন এবং ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
খামেনি ইসরায়েলকে বারবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরানোর হুমকি দিয়েছেন এবং হলোকাস্টের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া ২০২০ সালে ইউক্রেন বিমান বিধ্বস্ত এবং করোনাভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাবের সময় তিনি বিপর্যয় মোকাবিলায় শত্রু দোষারোপ করেন।
খামেনি শুধু ধর্মীয় নেতা নয়, ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক নীতিরও কেন্দ্রীয় চরিত্র। তার নেতৃত্বে ইরান আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন বিতর্ক এবং সংকট মোকাবিলা করছে, যা মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।