প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম (ভিজিট : ৮৯)

X
ভেজাল ও নিম্নমানের সেমাইয়ে বাজার সয়লাব
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভেজাল ও নিম্নমানের সেমাইয়ে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ঈদ এলেই বাজারে সেমাইয়ের চাহিদা বাড়ে এবং এ সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধূ ব্যবসায়ী নিম্ন মানের তেল, ডালডা, ময়দা, ফুট গ্রেটেড রং ছাড়া কাপড়ে ব্যবহুত বা ক্ষতিকারক রং, ভেজাল সোয়াবিন, পশুর চর্বি শাল্টু, স্যাকারিন ও টেল্লু ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের লাচ্ছা ও চিকন সেমাই তৈরি করে বাজারজাত করে থাকে।
এবারো তার ব্যতিক্রম নেই।
শুধু ঈদকে কেন্দ্র করে শহরে গড়ে উঠেছে অনেক বেনামী সেমাই কারখানা। এছাড়াও এক ধরণের অসাধূ ব্যবসায়ী শুধুমাত্র ঈদকে পুঁজি করে সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামে নিভৃত জায়গায় লোকচক্ষুর আড়ালে এবং অন্য উপজেলার ইউনিয়নগুলোর গ্রামাঞ্চলে নি¤œমানের এসব ভেজাল লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে প্রতিবার সৈয়দপুরসহ নীলফামারী জেলাজুড়ে ও অন্যান্য জেলার উপজেলায় বাজারজাত করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছে।
এসব নি¤œমানের সেমাই কিনে একদিকে যেমন সাধারন মানুষজন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পাশাপাশি তারা নানারকম রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে আসছেন। অনেকে দীর্ঘ মেয়াদি কঠিণ রোগে ভুগে আসছেন আবার কেউবা জীবন দিয়ে খেসারত দিয়েছেন। কিন্তু, এসবের ব্যবসা বন্ধ হয়নি বরং বেড়েইে চলেছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসন প্রায়ই ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এসব কারবারীদের ভ্রাম্যমান আদালতে অর্থ দন্ডসহ নানা ধরণের শাস্তি দিয়ে আসলেও এসব কারবারী ক্ষান্ত হচ্ছেন না। বরঞ্চ জায়গা বদল করে এসব কারবার চালিয়ে আসছেন। যার জন্য প্রকৃত বেকারীর মালিকরা এনিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী এসব ভেজাল ও নি¤œমানের সেমাইতো তৈরি করছেন তার ওপর আবার এনারা দেশের নাম-দামি ব্রান্ড কোম্পানীর নকল প্যাকেট ও মোড়ক তৈরি করে এসব সেমাই প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করে আসছেন।
অনেক কারখানায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নি¤œমানের ময়দা শ্রমিকরা অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পা’ দিয়ে খুচিয়ে-খুচিয়ে সেমাইয়ের মিশ্রণ তৈরি করছেন। যা’, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকীস্বরুপ। অনেক কারখানার মালিকরা দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী বনফুল, আলাউদ্দিনসহ বিভিন্ন কোম্পানীর প্যাকেট ছাপিয়ে তাতে এসব নি¤œমানের সেমাই ভরে বিক্রি করছে। এসব ভেজাল ও নকল সেমাই কিনে প্রতারিত হচ্ছে জনসাধারণ। জনশ্রæতি রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে গোপন দফা-রফায় এসব অসাধূ কারবার অবাধে করা হচ্ছে। এদিকে এলাকার সচেতনমহল মত পোষণ করেছেন যে, ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এসব নি¤œমানের সেমাই প্রস্তুতকারীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা না হলে এসব কারবার বন্ধ করা সম্ভব নয়