
X
অস্ট্রেলিয়ার সিডিনিতে চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে নিজেদের কৌশল ঝালিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার- বাফুফে
সিডনির সংবাদ সম্মেলনে পিটার জেমস বাটলার ধরা দিলেন নানা রূপে। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কখনও আশাবাদী, কখনও ভীষণ বাস্তববাদী। প্রস্তুতির কমতি নিয়ে উষ্মা জানাতে ‘গুলিস্তান থেকে সরাসরি সিডনিতে এসেছি’ এমন কথাও বললেন। তবে, সব কথার সরকথা, এই ইংলিশ কোচের দৃষ্টিতে চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ‘ঐতিহাসিক এক ম্যাচ।’
ওমেন্স এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কমব্যাংক স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই প্রতিযোগিতায় চীন রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে এসেছে তারা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের রানার্সআপও চীন। সেখানে বাংলাদেশ এই প্রথমবার দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়ার আঙিনায় এসেছে। চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য তো ইতিহাস গড়ার সমানই!
বাংলাদেশ আসলে ‘ইতিহাস’ গড়ে গত বছর জুলাইয়ে বাছাই পেরিয়েই। আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের উদ্বুদ্ধ করতে অস্ট্রেলিয়া এসে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি তাবিথ আওয়ালও সামনে আনলেন বাছাইয়ের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন,‘ “আগামীকাল বাংলাদেশ নারী দল চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবে। অবশ্যই, ইতিহাস ইতোমধ্যেই আমরা রচনা করেছি এবং আশা করি আগামীকাল আরেকটি ইতিহাস আমরা সৃষ্টি করতে পারব। এই পর্যায়ে আমাদের নারী দল বা পুরুষ দল কেউই এর আগে এত উঁচু পর্যায়ে খেলতে পারেনি। চীন বিশ্বকাপেও খেলে। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আগামীকাল তাদের সঙ্গে আমরা ভালো খেলা উপহার দেব। প্রথমে দলের প্রতি আমার বার্তা-আমি একজন সমর্থক। একজন সমর্থক হিসেবেই কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসেছি সিডনিতে। সিডনির বাংলাদেশি সমর্থকরাও কিন্তু মাঠে আসবে। আশা করি, মেয়েরা তাদের সেরাটা দেবে।’
বাটলারের চাওয়াটাও একই। তিনিও অনুপ্রেরণা খুঁজছেন মিয়ানমারের বিপক্ষে বাছাইয়ে পাওয়া সেই ২-১ গোলের অভাবণীয় জয় থেকে। বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ বলেন,‘ সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না, কেউই তখন আশা করেছিল যে, আমরা মিয়ানমারকে হারাবো। কারণ তারা র্যাঙ্কিয়ে অনেক এগিয়ে ছিল, ৫৫তম। মেয়েরা সেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছিল। সেটি ছিল কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম এবং প্রস্তুতির ফসল। আমরা অনেককে অবাক করে দিয়েছিলাম এবং আজ আমরা এখানে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের গল্প বলতে পারছি। আমি গর্বিত যে আমি সেই যাত্রার অংশ হতে পেরেছি।’
তিনি আরও যোগ করে বলেন,‘ বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে এটি সম্ভবত সবচেয়ে ঐতিহাসিক খেলা। মেয়েরা কোয়ালিফাই করার জন্য অসাধারণ পরিশ্রম করেছে। আমরা এখানে এসেছি এবং আশা করছি ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারব, কারণ এই পর্যায়ের ইভেন্টগুলোতেই আপনি আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।’
চীনকে শক্তিশালী মেনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলার প্রত্যয় শোনা গেল অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের কণ্ঠেও। কোচ অবশ্য ম্যাচটি ‘ডেভিড বনাম গোলাইয়াথ’ লড়াই মেনে নিচ্ছেন। তবে, ফুটবলীয় বাস্তবতায় ‘অদ্ভূত ও অবিশ্বাস্য’ কিছু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনিও,‘চীন খুবই শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত দল। এটি অনেকটা ডেভিড এবং গোলাইয়াথের লড়াইয়ের মতো। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে, আমরা এখনও ওদের পর্যায়ে নেই। কিন্তু ফুটবল এক অদ্ভুত খেলা! তবে, ফলাফল যাই হোক, আমরা আমাদের নিজস্ব কৌশলে খেলব। রক্ষণাত্মক হয়ে স্রেফ গোল ঠেকানোর মানসিকতা আমাদের নেই।’
কৌশল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে অবশ্য কমতি থেকেই গেছে বাংলাদেশের। গত নভেম্বরের ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে চীন। ফল যদিও অনুকূলে আসেনি, দুই ম্যাচে তারা যথাক্রমে ৮-০ ও ৩-২ গোলে হেরেছিল। অন্যদিকে গত ২ ডিসেম্বর আজারবাইজানের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর খেলায় হয়নি বাংলাদেশের।
আর এই বিষয়টি নিয়ে সিডনিতে এসে আরেকদফা উষ্মা ঝাড়লেন বাটলার,‘ আপনি যখন ইংল্যান্ডের সাথে খেলবেন, তখন আপনি বিশ্বের শীর্ষ দুই বা শীর্ষ তিন দলের সাথে খেলছেন। চীন গতিময় ফুটবল খেলে, এরিয়াল ক্রসে প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি। ফুটবল রকেট-সাইন্স নয়; যদি আপনি না দৌড়ান বা কাজে না ফিরেন, তাহলে আপনাকে শাস্তি পেতে হবে। আপনি যদি তাদের খেলার জায়গা দেন, তবে চীন আপনাকে শাস্তি দেবে। আমরা খারাপ দিনে তাদের ধরতে পারি –ফুটবলে অদ্ভুত কিছু ঘটে। আমরা সততা এবং নিষ্ঠার সাথে আমাদের সেরাটা দেব।’
তিনি আরও যোগ করেন,‘ আমরা ক্যাম্প গুলিস্তান থেকে ক্যাম্প অস্ট্রেলিয়ায় এলাম। আমি রাগ করি না; আমি একজন বাস্তববাদী। প্রস্তুতিই সবকিছু-যদি আপনি সঠিকভাবে প্রস্তুতি না নেন, তাহলে ফলাফল আশা করবেন না। বাংলাদেশের মানুষের কথা বলতে গেলে, তাদের সৎ প্রচেষ্টা আশা করা উচিত। আমরা একটি সৎ দল। খেলোয়াড়রা ছোট হতে পারে, কিন্তু তাদের হৃদয় বিশাল। তারা তাদের দেশের জন্য ভালো করতে চায়।’