
X
প্রতীকী ছবি
ইফতার অর্থ উপবাস ভঙ্গ করা। ভোর থেকে সারাদিন সিয়াম (রোজা) পালন শেষে সূর্যাস্তের পর প্রথম যে পানাহারের মাধ্যমে রোজা ভাঙা হয়, তাকে ইফতার বলা হয়। আর যে খাদ্য বা পানীয় দিয়ে ইফতার করা হয়, তাকে ইফতারি বলা হয়।
ইফতারের ফজিলত
ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নাত ও উত্তম আমল। যথাসময়ে ইফতার করা আল্লাহর কাছে প্রিয়। হাদিসে এসেছে, রোজাদারের দোয়া আল্লাহর নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে, রমজানে রোজাদার বান্দারা যখন দোয়া করে, ফেরেশতারা তাতে ‘আমিন’বলতে থাকে (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)।
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ একটি ইফতারের সময়, অপরটি তার রবের সাক্ষাতের সময়।”
-(সহিহ মুসলিম)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন: “তোমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো।”
-(সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭)
এই নির্দেশ পালন শেষে ইফতারের মাধ্যমে এক প্রশান্তি ও আনন্দ প্রকাশ পায়।
দ্রুত ইফতার করার গুরুত্ব
হাদিসে কুদসিতে এসেছে: “আমার বান্দাদের মধ্যে তারা আমার কাছে বেশি প্রিয়, যারা দ্রুত ইফতার করে।”
-(তিরমিজি)
আরও বর্ণিত হয়েছে:“যখন রাত্রি এ দিক থেকে আসে, দিন এ দিক থেকে সরে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন রোজাদার ইফতার করবে।”
-(সহিহ বুখারি)
কী দিয়ে ইফতার করা উত্তম
খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত। খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করাও সুন্নাত। হাদিসে এসেছে:
“তোমাদের কেউ রোজা রাখলে খেজুর দিয়ে ইফতার করুক; খেজুর না পেলে পানি দ্বারা, কেননা পানি পবিত্র।”
-(তিরমিজি, আবু দাউদ)
পানিমিশ্রিত দুধ দিয়েও ইফতার করার বর্ণনা রয়েছে। মাগরিবের নামাজের আগে ইফতার করা মোস্তাহাব।
ইফতারের সময় দোয়া
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। এ সময় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়া উত্তম, পাশাপাশি নিজ ভাষায় দোয়া করা যায়। সুন্নাত দোয়াটি হলো:
“আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।”
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার জন্য রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।
-(আবু দাউদ)
ইফতার করানোর ফজিলত
ইফতার করানোও অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহ মাফ হবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে—তবে রোজাদারের সওয়াব কমবে না।”
-(মুসনাদে আহমাদ)
এমনকি একটি খেজুর, এক ঢোঁক পানি বা সামান্য পানিমিশ্রিত দুধ দিয়েও ইফতার করালে সেই সওয়াব পাওয়া যায়।
ইফতারের গুরুত্ব ও সামাজিক দায়িত্ব
রমজান সহমর্মিতা ও দয়ার মাস। তাই বিলাসী ও ব্যয়বহুল ইফতারের আয়োজনের পরিবর্তে দরিদ্র, অসহায়, পথশিশু ও অভাবীদের ইফতারের ব্যবস্থা করা উত্তম।
হাদিসে এসেছে:“যে ব্যক্তি নিজে তৃপ্তিসহকারে আহার করল অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত রইল, সে মুমিন নয়।”
-(সহিহ মুসলিম)
ইফতার ও সাহ্রিতে স্বাস্থ্যসম্মত ও হালাল খাবার গ্রহণ করা জরুরি। কারণ, হালাল উপার্জন ও হালাল খাদ্য ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত।
রমজানের শিক্ষা হলো সংযম, কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতা—আর ইফতার সেই শিক্ষারই এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।