
X
প্রতীকী ছবি
ইসলামি শাস্ত্রে সালাতুত তাসবিহ বিশেষ নামাজ হিসেবে পরিচিত। এটি এক ধরনের নফল নামাজ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর মহিমা স্মরণ ও গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ। নামাজের বিশেষত্ব হলো তাসবিহের পুনরাবৃত্তি, যা রোজা বা অন্য নফল নামাজের সঙ্গে করা যেতে পারে।
নামাজটি দুই রাকাত বা চার রাকাত (সুন্নত অনুসারে) পড়া যায়। প্রতিটি রাকাতে বিশেষভাবে তাসবিহের ৭৫টি পুনরাবৃত্তি পড়তে হয়। তাসবিহের উচ্চারণ হলো:
“سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر”
(সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার)
প্রথম রাকাতে ফাতিহা ও সূরা পড়ার পর তাসবিহ শুরু হয়। রুকু, সিজদা এবং কায়ামের সময়ও তাসবিহ পাঠ করা হয়। দ্বিতীয় রাকাতেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। নামাজ শেষে ৩৫টি করে তাসবিহ পড়া হয়, যাতে মোট ৩০০ তাসবিহ হয়।
সালাতুত তাসবিহের নিয়ম:
নিয়ত: শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ পড়ার নিয়ত করতে হবে।
রাকাত সংখ্যা: ২ বা ৪ রাকাত।
তাসবিহ: রাকাতে ও সিজদা, রুকুতে পড়তে হবে।
পদ্ধতি: প্রথম রাকাতে ফাতিহা ও সূরা, তারপর তাসবিহ। দ্বিতীয় রাকাতেও একই।
নবীজী (সা.)-এর হাদিসে এসেছে, যারা নিয়মিত সালাতুত তাসবিহ পড়েন, আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করে দেন এবং তাদেরকে জান্নাতে উচ্চ স্থান দান করেন। বিশেষ করে রাতে বা জুম‘আর আগে নামাজ পড়লে অতিরিক্ত বরকত হয়।
এ নামাজের মাধ্যমে ব্যক্তি আত্মশুদ্ধি, মনোসংযম ও আল্লাহস্মরণ অর্জন করতে পারেন। এটি যেকোনো সময় পড়া যায়, তবে রমজান মাসে বা শুক্রবারে পড়লে সওয়াব আরও বেশি।
সালাতুত তাসবিহ নফল হলেও এর ফজিলত অসীম। নবীজী (সা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, যারা নিয়মিত এটি আদায় করেন, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করে। তাই মুসলমানদের কাছে এটি আত্মসংযম ও ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ এক অনুশীলন।