
X
ফাইল ছবি
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে হঠাৎ সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় দেখা দিয়েছে অস্থিরতা।
আর এর সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। গণপরিবহনের ঘাটতি ও জ্বালানি সংকটের সুযোগে অনেক রাইড শেয়ারিং চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক লিটার তেল পাওয়ার জন্য চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
সরকারিভাবে এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা না এলেও সংকটের সুযোগে রাইড শেয়ারিং সেবায় ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া দাবি করছেন অনেক চালক। অ্যাপে তারা যাচ্ছেই না; ‘খ্যাপে’ গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছেন। বিশেষ করে অল্প দূরত্বের জন্যও চালকরা অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন।
রাজধানীর উত্তরাগামী যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, তেলের অভাবে বাস কম চলছে। আবার মোটরসাইকেলে উঠতে গেলেও আকাশচুম্বী ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন এক জাঁতাকলের মধ্যে পড়ে গেছে।
ফার্মগেট থেকে বাড্ডার যাত্রী হুমায়ুন জানান, এই রুটে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া সাধারণত ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। কিন্তু এখন চালকরা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন।
জ্বালানি তেলের দাম তো এখনো বাড়েনি। তবুও সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজন থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি করা উচিত।
এয়ারপোর্টগামী যাত্রী তুহিন চৌধুরী বলেন, তিনি নিয়মিত রাইড শেয়ারিং ব্যবহার করেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে তেলের সংকটের অজুহাতে অনেক চালক দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছেন। আমরা যারা চাকরি করি, আমাদের তো বেতন বাড়ে না। তাহলে কারণ ছাড়াই কেন দ্বিগুণ ভাড়া দেব? এই পরিস্থিতিতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত মোটরসাইকেল চালকেরা বলছেন, জ্বালানি সংকটে তারাও মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প তেল পাওয়ায় সময়মতো রাস্তায় নামতে পারছেন না তারা। ফলে কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি পাম্পে অপেক্ষমাণ রাইড শেয়ারিং চালকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সকাল থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তবু তেল পাবে কি না তাও নিশ্চিত না। আর পেলেও ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না।
মিরপুরের রাইড শেয়ারিং চালক ইন্তাজ উদ্দিন জানান, তেলের সংকটের কারণে দিনের বড় অংশ লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হচ্ছে। এতে রাইড দেওয়ার সময় কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগে দিনে ১০টা পর্যন্ত খ্যাপ দিতে পারতাম। এখন তিনটার বেশি দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ আবার তেলের জন্য দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। ঈদের সময়ে এই পরিস্থিতি থাকলে রাইডশেয়ারিং চালকদের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।
যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে অনেক সময় ৫০ টাকা বেশি চাই। কেউ না দিলে জোর করি না।
এদিকে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা বন্ধে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তাদের অভিযোগ, রোদ, বৃষ্টি বা অফিস সময়ের অজুহাতে অনেক চালক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন।
ফলে রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং সেবায় সৃষ্টি হওয়া এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করেছে।