তেঁতুলে ভাগ্য বদল পাহাড় বাসির

চন্দনা বড়ুয়া, খাগড়াছড়ি

অর্থ-বানিজ্য

খাগড়াছড়িতে আর্থিক সম্ভাবনার আরেক নাম তেঁতুল। তেঁতুল বিক্রি করে ভাগ্য বদল হয়েছে পাহাড়ে বসবাসরত অনেকের। সারা বছরজুরেই বাজারে

2026-03-08T12:18:30+00:00
2026-03-08T12:28:11+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
তেঁতুলে ভাগ্য বদল পাহাড় বাসির
চন্দনা বড়ুয়া, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: রোববার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম  আপডেট: ০৮.০৩.২০২৬ ১২:২৮ পিএম  (ভিজিট : ১৩৭)
খাগড়াছড়িতে তেঁতুল বিক্রি করে ভাগ্য বদল হয়েছে পাহাড়ে বসবাসরত অনেকের
X

খাগড়াছড়িতে তেঁতুল বিক্রি করে ভাগ্য বদল হয়েছে পাহাড়ে বসবাসরত অনেকের

খাগড়াছড়িতে আর্থিক সম্ভাবনার আরেক নাম তেঁতুল। তেঁতুল বিক্রি করে ভাগ্য বদল হয়েছে পাহাড়ে বসবাসরত অনেকের। সারা বছরজুরেই বাজারে বেঁচা কেনা হয় এ তেঁতুল। আম, কাঁঠাল, কলা, ও হলুদের সাথে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে জায়গা করে নিয়েছে টক-মিষ্টি স্বাদের তেঁতুল। একসময় গাছতলায় পড়ে থাকা তেঁতুল এখন পাহাড়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। খাগড়াছড়ির টক-মিষ্টি স্বাদের তেঁতুলের আচার বিভিন্ন কোম্পানির হাত ধরে বাজারে সুনাম কুড়িয়েছে।

খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠেছে তেঁতুল বেচাকেনা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে টক-মিষ্টি তেঁতুল। ঢাকা, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তেঁতুল ব্যাবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত হয় হাট-বাজার।

 খাগড়াছড়ির কলা-কাঁঠালসহ কৃষিপণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার গুইমারা ও মাটিরাঙ্গা সরে জমিনে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয় ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি মঙ্গলবার গুইমারা ও শনিবার মাটিরাঙ্গা বাজারে ভোর থেকেই স্থানীয়রা তেঁতুল নিয়ে বাজারে আসেন।

দুপুরের মধ্যেই এসব তেঁতুল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাত বদল করে চলে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের হাতে। তেঁতুল কিনে নেওয়ার পরে খোসাবিহীন ও খোসাসহ তেঁতুল আলাদা আলাদা কার্টুনে প্যাকেটিং করা হয় বাজারেই। জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ৪০-৫০ মেট্রিক টন তেঁতুল বিক্রি হয় গুইমারা ও মাটিরাঙ্গা বাজারে।

একসময় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হাট-বাজারে ২০-২৫ টাকা দরে প্রতি কেজি তেঁতুল বিক্রি হলেও সমতলের বিভিন্ন জেলায় তেঁতুলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখন সেই টক-মিষ্টি তেঁতুল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। কোনো ধরনের কীটনাশক বা পরিচর্যা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত তেঁতুল লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে তেঁতুল চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা।
বেশ ক’বছর ধরে গুইমারা বাজার থেকে তেঁতুল নিয়ে যান ঢাকার ব্যবসায়ী মো. নুর নবী, ফেনীর  মোস্তফা কামাল, নরসিংদীর আবুল হোসেন ও চট্টগ্রামের জামাল উদ্দিন। তারা বলেন, ‘দিন দিন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ আশেপাশের জেলায় খাগড়াছড়ির তেঁতুলের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। তেঁতুলের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে স্থানীয় বাজারে দামও বেড়ে গেছে।’

দেশের আচার তৈরির কারখানাগুলোতেও খাগড়াছড়ির তেঁতুলের ব্যাপক চাহিদা আছে জানিয়ে নরসিংদী থেকে আসা পাইকার মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘নরসিংদীতে পাহাড়ি তেঁতুলের চাহিদা ব্যাপক। তেঁতুলে কোনো ধরনের কীটনাশকের ব্যবহার করা হয় না। ফলে এর গুণগত মান ঠিক থাকে।’

স্থানীয় বাজারে তেঁতুলের দাম ভালো পাওয়ায় খুশি গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি এলাকার  হলাপ্রু মারমা।তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের বিনিয়োগ বা ঝুঁকি ছাড়াই তেঁতুল বিক্রি করে আমার পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে।’

শুধু হাফছড়ির হলাপ্রু মারমা নয়, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত তেঁতুল বিক্রি করে সংসারের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরিয়েছেন গুইমারা বড়পিলাকের বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই ও তবলছড়ির আব্দুর রহমানের মতো অনেকেই। তারা বলেন, ‘তেঁতুলে লোকসান হয় না বলে তেঁতুলের বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

তারা বলেন, ‘একসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হতো বলে ভালো দাম পাওয়া যেত না। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ী আসার কারণে তেঁতুলের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয়রা।’ 

স্থানীয় বিক্রেতা সুনুইপ্রু মারমা বলেন, ‘একসময় তেঁতুল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। এখন আর বসে থাকতে হয় না। বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়। ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি ক্রেতার জন্য অপেক্ষার দিনও শেষ হয়ে গেছে।’

দেশব্যাপী খাগড়াছড়ির তেঁতুলের বাজার তৈরি হওয়ার সাথে সাথে পাহাড়ে তেঁতুল দিয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও ব্যাপক। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আরও বেগবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেন,পাহাড়ে উৎপাদিত তেঁতুলের কোন জাত নেই, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে তেঁতুল গাছ। তেঁতুল গাছ লাগানোর পর তেমন কোনো পরিশ্রম করতে হয় না একটি বড় তেঁতুল গাছ থেকে প্রতি বছর কয়েক মণ ফল পাওয়া যায়।’







Loading...
Loading...


অর্থ-বানিজ্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy