
X
নেইমার জুনিয়র
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন তার সাবেক এক ব্যক্তিগত রাঁধুনি। অভিযোগ, রিও ডি জেনেইরোর মাঙ্গারাতিবার বিলাসবহুল বাড়িতে কাজ করার সময় তাকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যার ফলে শারীরিক সমস্যায় পড়েন তিনি।
ব্রাজিলের শ্রম আদালতে করা মামলায় ওই নারী দাবি করেছেন, প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো তাকে। এতে তার পিঠে ব্যথা ও নিতম্বে প্রদাহের মতো শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি প্রায় ৩৭ হাজার পাউন্ড (প্রায় ২ লাখ ৬২ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল) দাবি করেছেন। এর মধ্যে বকেয়া পারিশ্রমিক, অতিরিক্ত কাজের ভাতা, নৈতিক ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্রাজিলের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী একটি তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেইমারের বাসভবনে কাজ করেন। তার কর্মস্থল ছিল নেইমারের প্রধান বাড়ি ‘কাসা হোটেল পোর্তোবেলো’ এবং পাশের কন্ডোমিনিও পোর্তোবেলো কমপ্লেক্স।
চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে চার দিন সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা এবং শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী বাস্তবে প্রায়ই তাকে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে হয়েছে, কখনো কখনো কাজ চলেছে মধ্যরাত পর্যন্ত।
তবে তার দায়িত্বের মধ্যে ছিল বড় আকারের মাংস বহন করা, ভারী বাজারের জিনিসপত্র ওঠানামা করানো, ফ্রিজের তদারকি করা এবং একসঙ্গে প্রায় ১৫০ জন অতিথির জন্য খাবার প্রস্তুত করা। এছাড়া সপ্তাহান্তে, বিশেষ করে রোববারেও তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কাজ করলেও তিনি নিয়মিত মধ্যাহ্ন বিরতি পাননি, যা ব্রাজিলের শ্রম আইনের পরিপন্থী। ছয় ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করলে অন্তত এক ঘণ্টা বিরতি দেওয়ার বিধান রয়েছে। নথি অনুযায়ী তার মাসিক বেতন ছিল প্রায় ৪ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ৫৬৬ পাউন্ড)। অতিরিক্ত সময় কাজ ও বোনাসসহ তার আয় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ রিয়াল পর্যন্ত পৌঁছাত।
তবে এ বিষয়ে নেইমারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে ব্রাজিলের শ্রম আদালতে বিচারাধীন। বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলছেন নেইমার, যিনি জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বের অন্যতম ধনী ফুটবলার হিসেবে পরিচিত এই তারকার মাঙ্গারাতিবায় দুটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এর একটি প্রায় ৫ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে নির্মিত, যেখানে ছয়টি সুইট, সুইমিং পুল, বিনোদন এলাকা এবং অতিথিদের জন্য অতিরিক্ত ১০টি কক্ষ রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও অননুমোদিত নির্মাণকাজের কারণে পরিবেশগত জরিমানার ঘটনায় নেইমারের এই সম্পত্তিগুলো সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিল।
: