
X
সংগৃহীত ছবি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় জাকির হোসেন মিয়াজি (৪৫) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (৮ মার্চ) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন জাকির হোসেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন মিয়াজির সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী, আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন, নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী ও মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদারসহ আরও কয়েকজন।
এ ঘটনায় জাকির হোসেন মিয়াজি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত সোমবার সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে জাকির হোসেনের ওপর হামলার চালায় অভিযুক্তরা। হামলায় জাকির হোসেন মিয়াজির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ বিষয়ে চাঁদপুর আদালতে জাকির মিয়াজির ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি মামলা দায়ের করেন।
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী একজন সাধারণ কৃষক। আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে, অহন আমি আমার পোলাপাইন লইয়া কেমতে বাঁচুম? হেই চিন্তায়ইতো আমি বাঁচিনা? আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।
নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া আসার সময় প্রায়ই কয়েকজন ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে বাবা স্কুলে হেড স্যারের কাছে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা আমার বাবারে একা পাইয়া বেধম মারধর করে।
বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার বাবাকে ওরা বেধম মারধর করে হত্যা করেছে। আমরা গরীব মানুষ, আমার বাবা নাই। এখন আমাদের কি উপায় হবে?
এ বিষয়ে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফু উল্যাহ বলেন, এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। হয়তো অন্য শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেনি।
মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে।