. বুমরাহ ভারতের ‘জাতীয় সম্পদ’

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

সেমিফাইনালে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে সাঞ্জু স্যামসন বলেছিলেন, “পুরস্কারটি আসলে জাসপ্রিত বুমরাহর প্রাপ্য।” ফাইনালেও তেমন কিছুর পুনঃমঞ্চায়ন

2026-03-09T17:09:36+00:00
2026-03-09T17:09:36+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
. বুমরাহ ভারতের ‘জাতীয় সম্পদ’
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম   (ভিজিট : ৪৩)
একপাশে মা, আরেকপাশে স্ত্রীকে নিয়ে ট্রফি হাতে জাসপ্রিত বুমরাহ।
X

একপাশে মা, আরেকপাশে স্ত্রীকে নিয়ে ট্রফি হাতে জাসপ্রিত বুমরাহ।

সেমিফাইনালে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে সাঞ্জু স্যামসন বলেছিলেন, “পুরস্কারটি আসলে জাসপ্রিত বুমরাহর প্রাপ্য।” ফাইনালেও তেমন কিছুর পুনঃমঞ্চায়ন হতে পারত। স্যামসন যে আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তবে বুমরাহও বল হাতে এতটাই ভালো করেছেন যে, এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই ম্যাচের সেরা বুমরাহ। শুধু এই একটি ম্যাচ তো নয়, ম্যাচের পর ম্যাচে তিনি ভারতের ভরসা আর প্রতিপক্ষের আতঙ্ক। ফাইনাল শেষে তাকে জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করেই দিলেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ।

ভারতের গত বিশ্বকাপ জয়ের মূল অনুঘোটকদের একজন ছিলেন বুমরাহ। আসরজুড়ে অসাধারণ বোলিং করে ম্যান অব দা টুর্নামেন্টও হয়েছিলেন সেবার। এবার তাকে গতবারের মতো সেই নিখুঁত চেহারায় হয়তো পাওয়া যায়নি কখনও কখনও। চোট কাটিয়ে ফেরার পর মাঝেমধ্যেই একটু ছন্দহারা হয়েছেন। এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে উইকেটগুলোও তো বোলারদের জন্য প্রায় বধ্যভূমি।

কিন্তু তার পরও বড় পার্থক্য তিনি গড়ে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে। কখনও কখনও তার বোলিং ফিগারে তা ফুটে উঠেছে, কখনও ফুটে ওঠেনি। কিন্তু যারা মাঠে খেলেছেন, যারা দেখেছেন, তারা জানেন বুমরাহর প্রভাবের কথা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান উৎসবের সেমি-ফাইনালে শেষ সময়ে গিয়ে যেমন এক ওভারে মাত্র ৬ রান দেওয়ার অবিশ্বাস্য নজির দেখান, তেমনি অনেক ম্যাচেই ভারতের জয়ে মিশে আছে তার বোলিংয়ের প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ প্রভাব।

এবারের আসরের সেরাটা তিনি জমা রেখেছিলেন ফাইনালের জন্য। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটেও ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে শিকার করেন ৪ উইকেট। টি২০ বিশ্বকাপের সব আসর মিলিয়ে ফাইনালে এই প্রথম ৪ উইকেট পেলেন কোনো পেসার।

তার ক্যারিয়ারেও এটি প্রথম! টি২০ ক্রিকেটে তিনি অবিসংবাদিতভাবেই সেরা বোলার। সর্বকালের সেরা টি২০ বোলার বললেও লোকে দ্বিমত খুব বেশি করবে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আন্তর্জাতিক টি২০তে ৯৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ৪ উইকেট নিতে পারলেন তিনি প্রথমবার। বেশির ভাগ সময়ই যে তাকে নিরাপদে খেলে পার করে দিতে চান সব প্রতিপক্ষই।

ম্যান অব দা ফাইনালই শুধু নয়, আরেকবার ম্যান অব দা টুর্নামেন্টের পুরস্কার তিনি পেলেও অবাক করার মতো হতো না। যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ ১৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি (ভারুন চক্রবর্তির সঙ্গে)। বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নের বিশ্বকাপে ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৬.২১। আসরে অন্তত ৫ উইকেট শিকারি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী তিনিই।

একজন বুমরাহ দলের জন্য কত বড় আশীর্বাদ, অধিনায়কের চেয়ে ভালো আর কে জানে! ফাইনালের পর সেই তৃপ্তিই ফুটে উঠল সুরিয়াকুমারের কণ্ঠে। “গত ম্যাচের পর তো সাঞ্জু বলেছেই যে ম্যাচ-সেরার পুরস্কার সে জাসপ্রিত বুমরাহকে দিতে চায়। এক প্রজন্মে এরকম বোলার একজনই আসে। এই মুহূর্তে আমি ওকে জাতীয় সম্পদ বলতেই পারি।”

“সে জানে কখন কী করতে হয় এবং কীভাবে করতে হয়। কোনো সংশয় নেই যে এই খেলার সেরা সে এবং আশা করি, সে এটা ধরে রাখবে।”


ফাইনালের পর বুমরাহ জানালেন, বিশ্বকাপের আগে কিছু সময়ের জন্য নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। তবে সময়মতোই খুঁজে পেয়েছেন সেই চেনা রূপ।

“টুর্নামেন্টের আগে আমি এমন একটি অবস্থায় ছিলাম, যেখানে মনে হচ্ছিল আমি একটু বেশিই চেষ্টা করছি। খুব ভালো বোলিং করছিলাম বটে, তবে কোনো না কোনোভাবে মনে হচ্ছিল, অতি চেষ্টা করে ফেলছি। কিন্তু এই সংস্করণে আমার চাওয়া থাকে খেলাটাকে নিজের কাছে আসতে দেওয়া।। সবসময় প্রস্তুতি ভালো থাকত আমার এবং পরিস্থিতি ঠিকঠাক পড়তে পারতাম। এই টুর্নামেন্টে সেটিই করার চেষ্টা করেছি এবং তা কাজে লেগেছে।। নিজের খেলার পর্যালোচনা সবসময়ই আমার শক্তির বড় জায়গা।”

ফাইনালের ভেন্যু আহমেদাবাদেরই সন্তান তিনি, এই আলো-হাওয়ায় বেড়ে উঠেছেন, এই ধুলোবালিতে মাখামাখি হয়েছেন। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যান অব দা ম্যাচ হতে পেরে তার আনন্দ যেন বাঁধ মানছে না।

“খুবই স্পেশার অনুভূতি, কারণ ঘরের মাঠে আগেও ফাইনাল খেলেছি (২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ), কিন্তু জিততে পারিনি। এবার সত্যিই স্পেশাল কিছু মনে হচ্ছে। খুবই উজ্জীবিত ছিলাম আমি, ভাবনায় স্বচ্ছ ছিলাম। জানতাম কী করতে হবে আমাকে। উইকেট ছিল নিষ্প্রাণ, তবে আমি তো এখানে অনেক খেলেছি, সব অভিজ্ঞতা ঢেলে দিয়েছি এখানে।”

“এর চেয়ে বেশি খুশি আর হতে পারতাম না। বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচ-সেরা, এর চেয়ে স্পেশাল কিছু আর হতে পারত না। এখান থেকেই ক্রিকেটের শুরু আমার। এর চেয়ে ভালো কিছু আর হয় না।”








Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy