
X
বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ
প্রত্যাশার প্রতিফলন পড়ছে না পারফরম্যান্সে অনুভব করতে পারছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিজেই বললেন, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তার সাদামাটা। তবে এটা নিয়ে দুর্ভাবনা নেই বলেও দাবি বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের। দ্রুতই জেতানো পারফরম্যান্স মেলে ধরতে আশাবাদী তিনি।
গত বছর ১১ ওয়ানডে খেলে একটি মাত্র ফিফটি মেহেদী হাসান মিরাজের। বল হাতেও পাননি ১১টি বেশি উইকেট। এর মধ্যে চার ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। নতুন বছরে আরেকটি সিরিজ শুরুর আগে তাই প্রশ্ন উঠছে তার পারফরম্যান্স নিয়ে। মিরাজ জানালেন, এসব নিয়ে চিন্তিত নন তিনি।
টি২০ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই এবার ওয়ানডের লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।
ঘরের মাঠে প্রায় ১১ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। মাঠের এই লড়াই শুরুর আগে আলোচনায় অধিনায়কের পারফরম্যান্স। গত বছর ১১ ওয়ানডে খেলে মাত্র ১ ফিফটিতে ১৯.১০ গড়ে ১৯১ রান করেছেন মিরাজ। আর বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট।
সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে করা প্রশ্নে মিরাজ বললেন, চেষ্টা করবেন দলকে জেতানোর,‘ আমি (নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে) চিন্তিত নই। সবশেষ যে সিরিজগুলো আমরা খেলেছি বিশ্বকাপের পরে, কত? প্রায় ১৫টি ওয়ানডে (আসলে ২৩টা) খেলেছি সম্ভবত এবং অনেক গ্যাপে গ্যাপে খেলেছি। আমার মনে হয়, সবার প্রত্যাশা যেরকম, আমি অনেক ম্যাচ জেতাব, হয়তো সেটা হচ্ছে না, গড়পড়তা হচ্ছে। তবে অবশ্যই চেষ্টা করব দলের জন্য ম্যাচ জেতানোর।”
অধিনায়কের পারফরম্যান্সের ছাপ পড়েছে বাংলাদেশের দলীয় পারফরম্যান্সেও। ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টি জিতেছে বাংলাদেশ। দলকে জেতানোর জন্য ব্যাটে-বলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুত্ব বুঝতে পারছেন মিরাজও।
তাই নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে ভালো জায়গায় নেওয়ার প্রত্যয়ের কথাই বললেন ২৮ বছর বয়সী স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার। তিনি বলেন,‘ আমি নিজেকে নিয়ে কখনও চিন্তা করিনি। সবসময় চেষ্টা করি দলের প্রয়োজনে যতটা ভালো খেলা যায় ও কীভাবে জেতানো যায়। আমি অবশ্যই অগ্রাধিকার দিই, দল যদি ভালো রেজাল্ট করে এবং দিন শেষে আমার পারফরম্যান্সও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং-বোলিং দুইটাই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও যোগ করেন,‘ আমি যেই জায়গায় ব্যাটিং করি, যেই পজিশনে বোলিং করি তা দলের জন্য অনেক কাজের। আমি মনে করি, ওইখানে আমার পারফর্ম করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর দিন শেষে অধিনায়ক হিসেবে দলের ফল পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। তো অবশ্যই চেষ্টা করব, সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব পারফর্ম করার ও দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার।”
অফ ফর্মের কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে অধিনায়কত্ব নিয়েও। তার নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলে স্রেফ ৩ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। এই ১৩ ম্যাচে মিরাজের পারফরম্যান্সও তেমন ভাল নয়। অধিনায়কত্ব করা ১৩ ম্যাচে ব্যাট হাতে ৪ ফিফটির সৌজন্যে ৩২.৫৮ গড়ে ৩৯১ রান করেছেন মিরাজ। স্ট্রাইক রেট মাত্র ৭২.৪০! আর বোলিংয়ে এই ১৩ ম্যাচে তার শিকার ঠিক ১৩টিই উইকেট।
আপাতত এক বছরের জন্য ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব করছেন মিরাজ। সব ঠিক রেখে আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে দায়িত্বে থাকা হবে কিনা, এই প্রশ্নের জবাব বোর্ডের কাছে ছেড়ে দিলেন তিনি,‘ ওইটা তো আমার একার সিদ্ধান্ত না, ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছে তাদের সিদ্ধান। এখনও ওই ব্যাপারে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তবে আমার মনে হয় যেহেতু এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই সিরিজটার পরে হয়তো আলোচনা হবে বা তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।’