
X
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে দুই দলের অধিনায়ক-ইন্টারনেট
তিন মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উন্মাদনা থেকে দূরে ছিল বাংলাদেশ। আবারও ব্যাট-বলের শব্দে মুখর হতে যাচ্ছে মিরপুর। ফাগুনের আগুনরাঙা আবহের শেষ প্রহরে নতুন এক যাত্রার দুয়ারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দীর্ঘঅপেক্ষার পর আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরছে টাইগাররা-নতুন স্বপ্ন, নতুন লক্ষ্য আর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে।
কাল বুধবার থেকে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। আর এ ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।
গত বছরের ২ ডিসেম্বরের পর এটিই হবে টাইগারদের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ। তখন দলের সব মনোযোগ ছিল টি ২০ বিশ্বকাপকে ঘিরে। এখন লক্ষ্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়া নিয়ে।
ফাল্গুন মাস শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। এই অল্প সময়েই পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ঈদুল ফিতরের আগেই সিরিজ জিতে সেরা উপহারটা তুলে রাখতে চান মেহেদী হাসান মিরাজরা। সিরিজপূর্বসংবাদ সম্মেলনে মূলত আলোচনায় ছিল নতুন এক যাত্রার কথা।
চলতি বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ও বিদেশে মিলিয়ে এই সংস্করণে বাংলাদেশের ম্যাচ রয়েছে ২২টি। আাগামী বছর ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসি র্যাংকিংয়ের অন্তত শীর্ষ-৯ এর মধ্যে থাকলেই শুধ-ু২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করতে পারবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মিরাজ বলেন, ‘এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দলের জন্য, বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশ সামনে বিশ্বকাপ খেলবে। ওই সময় যেই অধিনায়ক থাকুক না কেন, সবারই প্রথম প্রাধান্য বাংলাদেশ এবং সামনে বিশ্বকাপে জায়গা করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
জানুয়ারিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা হঠাৎ করেই ওলটপালট হয়ে যায়। সেই জটিলতার জেরে শেষ পর্যন্তআইসিসি টি ২০ বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ। বড় আন্তর্জাতিক আসর মিস করার হতাশা কিছুটা লাঘব করতে বিসিবি দুটি ছোট ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেও, সেগুলো কোনোভাবেই বিশ্বকাপের বিকল্প হতে পারেনি। সেই আক্ষেপ পেছনে ফেলে এখন বাংলাদেশের দৃষ্টি ভবিষ্যতের দিকে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
তাইতো জয় দিয়ে সিরিজ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে বুধবার মিরপুর শেরে বাংলাজাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কারণ পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সম্প্রতি অনেক বেশি টি২০ ম্যাচ খেলার পর ওয়ানডে ফরম্যাটের ছন্দে ফেরাটা টাইগারদের জন্য জরুরি। পাশাপাশি ২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করাও প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশ দলের।
আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতির জন্য ভাল ব্যাটিং উইকেটও প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম ওয়ানডের আগে মিরাজ জানান, আগামী বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ভাল উইকেটে খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে আমাদের।
মিরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপের উইকেট সবসময় ভাল হয়ে থাকে এবং আমরা এখন থেকেই ভাল উইকেটে খেলার অভ্যাস করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে আমাদের অনেক ম্যাচ আছে। পরিকল্পনা হল, ভাল উইকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা। আমরা যদি ভাল উইকেটে বেশি বেশি খেলতে পারি তাহলে আমাদের জন্যই ভাল হবে। একই সাথে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপে আমাদের সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তাই আমরা যে দলগুলোর সাথে খেলব সেসব দলের বিপক্ষে আমরা ঘরের কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করব।’
বাংলাদেশের মাটিতে ২০১৫ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান। ঐ সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল পাকিস্তান।
গত বছর তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিল পাকিস্তান। এ সিরিজও ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। আর সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এরমধ্যে বাংলাদেশের জয় ৫টিতে, পাকিস্তান জিতেছে ৩৪ ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৫ জয়ের চারটি এসেছে ২০১৫ সালে। তবে অতীত রেকর্ড খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ ওয়ানডেতে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে টাইগাররা।
কিন্তু ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স হতাশাজনক। তারপরও পাকিস্তানের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবে বাংলাদেশ। কারণ ঘরের মাঠের সুবিধা ও রেকর্ডে এগিয়ে টাইগাররা। পাশাপাশি এবার অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন, ‘অবশ্যই, ঘরের মাঠে যেকোন দলই বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নামে। এটা খুবই স্বাভাবিক। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের একটি ভাল দল আছে এবং তারা হোম কন্ডিশনে খুব ভাল ক্রিকেট খেলে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অন্যান্য দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা দল হিসেবে প্রস্তুত। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকার বিপক্ষে আমরা সর্বশেষ দুই ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি। সম্প্রতি ওয়ানডেতে আমরা ভালো খেলেছি। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’
বাংলাদেশ দল : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
পাকিস্তান দল : শাহিন শাহ আফ্রিদী (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হুসেইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলি আগা ও শামিল হুসেইন।