নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলাধুলা

মিরপুরের স্লো উইকেটে বরাবরই বাড়তি সুবিধা পান স্পিনাররা। স্পিন স্বর্গেই এবার রীতিমতো আগুন ঝরালেন দ্রুতগতির ফাস্ট বোলার নাহিদ

2026-03-11T20:41:11+00:00
2026-03-11T20:41:11+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪১ পিএম   (ভিজিট : ১২২)
বাংলাদেশী পেসার নাহিদ রানা
X

বাংলাদেশী পেসার নাহিদ রানা

মিরপুরের স্লো উইকেটে বরাবরই বাড়তি সুবিধা পান স্পিনাররা। স্পিন স্বর্গেই এবার রীতিমতো আগুন ঝরালেন দ্রুতগতির ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের গতি আর বাউন্সে চোখে সর্ষে ফুল দেখেছেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান-সালমান আগারা! ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়ানডেতে ফাইফারের দেখা পেয়েছেন। তাতে কোনোরকমে একশ ছুঁয়ে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করেছে পাকিস্তান। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে ২৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিময় পেসার মনে করা হয় নাহিদ রানাকে। তার বলের গতি ১৪০, ১৪৫ কিলোমিটারের ওপরেও উঠে যায়। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে ফরম্যাটে ফিরে আসা বাংলাদেশকে এখন আশা দেখাচ্ছেন গতির রাজা নাহিদ রানা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে কেন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, তা ভালোভাবে দেখিয়ে দিচ্ছেন নাহিদ রানা।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এর মাঝে যা হলো, সেটা একজনের হাত ধরেই— নাহিদ রানা। গতিই তার আসল অস্ত্র। ঘরোয়া ক্রিকেটের পথ পাড়ি দিয়ে টেস্টে দলে তিনি নিয়মিত মুখ। ওয়ানডে আর টি২০তে পা রেখেছেন আগেই। কিন্তু থিতু হতে পারেননি।

আর সেই নাহিদ রানা বুধবার সাদা বলের ক্রিকেটেও নিজের জাত চেনালেন। আগের ৫ ওয়ানডেতে তাঁর উইকেট ছিল পাঁচটি, সর্বোচ্চ ২ উইকেট পেয়েছিলেন অভিষেক ওয়ানডেতে। আর আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই নিলেন ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট, সেটিও আবার নিজের প্রথম পাঁচ ওভারের প্রতি ওভারে একটি করে নিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এখন নাহিদ রানার।

গতিটা নাহিদের সহজাত, ফাস্ট বোলারসুলভ আক্রমণাত্মক দেখা যায় তাঁকে সবসময়ই। আজ সে সঙ্গে তাঁর বোলিংয়ে যোগ হয়েছে বুদ্ধিমত্তা আর বৈচিত্রের প্রয়োগ। সালমান আগার আউটটার কথাই ধরুন, স্কয়ার লেগে আগে থেকেই হেলমেট পরে দাঁড়িয়েছিল তানজিদ হাসান। তাঁর হাতে বলটা নিতে যেমন বোলিং করতে হতো, নাহিদ দেন সেরকমই ডেলিভারি। গা বরাবর লাফিয়ে উঠা বলে সালমান ফ্লিকটা করতে পারলেও বল গেছে তানজিদের হাতে।

এটি ছিল নাহিদের ৫ উইকেটের শেষটি। ৭ ওভারের স্পেলে বলতে গেলে একা হাতেই তিনি ধ্বসিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটিং। শুরুর ৯ ওভারে নতুন বলের দুই বোলার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান মিলে কোনো উইকেটই নিতে পারেননি।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বল তুলে দেন নাহিদের হাতে। ওভারের শেষ বলে শর্ট লেন্থের বল পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাহিবজাদা ফারহান আউট হলে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। ১২তম ওভারে নাহিদের দ্বিতীয় শিকার শামিল হোসেন। অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান অবশ্য আগের ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন। নাহিদের শর্ট লেন্থের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি।

আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন অন্যপ্রান্তে। নাহিদ হতে দিলেন না তাও। ১৪তম ওভারে শর্ট বলে মাজ সাদাকাত পুল করতে গিয়ে ঠিকঠাক করতে না পেরে ক্যাচ তুলে দেন সাইফ হাসানের হাতে।

প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে ফেরানোর পর বাংলাদেশের হাতে চলে আসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। নাহিদ অবশ্য নিজের পরের দুই ওভারেও ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আগাকে। তাতে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়াটা হয়ে দাঁড়ায় কেবলই সময়ের ব্যাপার।

নাহিদ উইকেট পেতে পারতেন তাঁর করা শেষ ওভারটাতেও (৭ম)। কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া পাননি, রিভিউও নেয়নি বাংলাদেশ। টিভি রিপ্লেতে যদিও দেখা গেছে, রিভিউ নিলে আরেকটি উইকেটও যোগ হতো নাহিদের নামের পাশে।

নাহিদ পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের চমকে দিয়েছেন বাউন্সারে, কখনো তারা বিধ্বস্ত হয়েছেন শুধু তার গতিতে, কখনো আবার পা দিয়েছেন নাহিদের পাতা ফাঁদে। তাতে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার তো ধসে গেছেই, নাহিদ দিলেন একটা বার্তাও। সাদা বলের ক্রিকেটেও এখন থেকে নিয়মিতই তার কথা ভাবতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

পাকিস্তানের এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান নাহিদের দারুণ ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন কিপার লিটন দাসের গ্লাভসে।  ১৮তম ওভারে সালমান আলি আঘাকে ফরোয়ার্ড শট লেগে ক্যাচে পরিণত করেন নাহিদ। তার লাফিয়ে উঠা বল শরীর থেকে সরাতে গিয়েছিলেন সালমান। দারুণ রিফ্লেক্সে সেই ক্যাচ মুঠোয় জমান তানজিদ হাসান তামিম। পরের ওভারে মিরাজ অভিষিক্ত আব্দুল সামাদকে ফিরিয়ে দিলে ৭০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় পাকিস্তান।

ওয়ানডে পাকিস্তানের বিপক্ষে

বাংলাদেশের সেরা বোলিং

বোলিং নাম ভেন্যু সাল
৫/২৪ নাহিদ রানা মিরপুর ২০২৬
৫/৭৫ মুস্তাফিজুর রহমান লর্ডস ২০১৯
৪/৪৩ মুস্তাফিজুর রহমান আবুধাবি ২০১৮
৪/৫৬ তাপস বৈশ্য লাহোর ২০০৩
৪/৬৫ মাশরাফি বিন মর্তুজা করাচি ২০০৮








Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy