
X
মোজতবা খামেনি
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলেরেজা সালারেয়ান। ওই হামলায় তার পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হন, যার মধ্যে তার বাবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ছিলেন।
সাইপ্রাসে দূতাবাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত জানান, হামলার সময় মোজতবা খামেনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং গুরুতর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।তিনি বলেন, ওই বোমাবর্ষণে খামেনি আহত হন। তার পা, হাত ও বাহুতে আঘাত লাগে এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে পারেন।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাবার মৃত্যুর পর গত রোববার সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি বা কোনো বক্তব্য দেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আঘাতের কারণে তিনি এখন বক্তৃতা দেওয়ার মতো স্বস্তিদায়ক অবস্থায় নেই।”
হামলাটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরানের ওপর বিমান হামলার প্রথম দিন। ওই দিন তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সের কাছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে আলী খামেনির স্ত্রী, মেয়ে, জামাতা এবং মেয়ের ১৪ মাস বয়সী শিশুও ছিল। এছাড়া সেখানে আমন্ত্রিত কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারও নিহত হন।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ও সরকারি উপদেষ্টা ইউসুুফ পেজেসকিয়ান বুধবার (১১ মার্চ) জানান, মোজতবা খামেনি আহত হলেও তিনি নিরাপদ আছেন। অন্যদিকে এক ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তিনি হালকা আহত হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচনের সমালোচনা করে এটিকে “অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেন।অন্যদিকে ইসরাইল সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনে তারা এই শিয়া ধর্মীয় নেতাকে হত্যার পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতা তার বাবার মতোই কঠোর নীতির অনুসারী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত সালারিয়ান আরও বলেন, আলী খামেনি জীবদ্দশায় তার ছেলেকে উত্তরসূরি হিসেবে চাননি, কারণ তিনি বংশগত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে হামলার পর শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের একটি কমিটি তাকে দায়িত্ব নিতে বলে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে জনসমক্ষে কম আনা হচ্ছে।