ঝিনাইদহে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: কৃষক দলের নেতা নিহত, আহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাবাংলা

ঝিনাইদহে জামায়াতের নারী কর্মীদের দোয়া মাহফিলে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত

2026-03-13T22:25:32+00:00
2026-03-13T22:25:32+00:00
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬
   
ঝিনাইদহে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: কৃষক দলের নেতা নিহত, আহত ৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম   (ভিজিট : ১৫০)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহে জামায়াতের নারী কর্মীদের দোয়া মাহফিলে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত কৃষক দলের নেতা তরু মিয়া (৪৮) মারা গেছেন। 

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তরু মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তরু মিয়ার অবস্থা শঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।


নিহত তরু মিয়া মাধবপুর গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে এবং গান্না ইউনিয়ন কৃষক দলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। 

জানা যায়, মাধবপুর গ্রামে শুক্রবার জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারী কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মহিলা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে বিএনপি কর্মী তরু মিয়াকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় রেফার্ড করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এদিকে তরু মিয়া নিহতের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।


শুক্রবার রাতে নিহত তরু মিয়ার ভাগ্নে আবু কালাম জানান, মামার অবস্থা বেশি খারাপ হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরে সে মারা যায়। মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছি। 

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম প্রোগ্রাম ও ইফতার অনুষ্ঠানে কোনো কারণ ছাড়াই হামলা চালায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সে সময় জামাতের নেতা-কর্মীরা তার প্রতিরোধ করে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমরা দলীয়ভাবে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

গান্না ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী বলেন, ইফতার ও জামায়াতের বৈঠক নিয়ে গণ্ডগোল হয়। পরে স্থানীয়ভাবে মিটে যায়।

সদর থানা বিএনপির সভাপতি মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু বলেন, তরু মিয়া গান্না ইউনিয়ন কৃষক দলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছিল কিন্তু বিপরীত পক্ষ আচমকা তাদের ওপর হামলা করেছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, আহত তরু মিয়া ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন। পুনরায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে সেই কারণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। সংঘর্ষের ঘটনাসহ সার্বিক ঘটনা ও পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। ঘটনায় যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy