রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির ৪ সিনিয়র নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রপতি পদ। সরকারি দলের গণ্ডি পেরিয়ে বিরোধী দল ও

2026-03-14T11:44:42+00:00
2026-03-14T11:44:42+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির ৪ সিনিয়র নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম   (ভিজিট : ১৮৪৮)
X

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রপতি পদ। সরকারি দলের গণ্ডি পেরিয়ে বিরোধী দল ও রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তাকে অপসারণের জন্য জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। সেই ঘটনা দলটির জন্য কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলেও অনেকে মনে করেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসনের পথে যেতে বিএনপি আপাতত আগ্রহী নয়। তবে দলীয় মহলে এমন আলোচনা রয়েছে যে, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন।

দলীয় সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছে বিএনপি। একদিকে দলটি এখনই কোনো অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চায় না, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি আপাতত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এখনই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারও পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। অথচ পরবর্তী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সময় নির্বাচন নিয়েও দলটির মধ্যে হিসাব-নিকাশ চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ছয় মাস পর নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হলে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকতে পারেন। তাই সব দিক বিবেচনা করেই দলটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

এদিকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখেন এবং অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য তার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

দলীয় একটি সূত্রের দাবি, শারীরিক কারণে রাষ্ট্রপতি হওয়া সম্ভব না হলে ড. মোশাররফকে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা মর্যাদাপূর্ণ পদ দেওয়া হতে পারে। এমনকি মন্ত্রী পদমর্যাদায় তাকে সরকারি প্রটোকলের আওতায় আনার আলোচনা রয়েছে। একইভাবে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকেও মন্ত্রী সমমর্যাদার কোনো পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

সংসদের স্পিকার পদে ড. মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার হিসেবে বেছে নেয় বিএনপি নেতৃত্ব। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও চমক থাকতে পারে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও একটি নাম আলোচনায় রয়েছে- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ তিন প্রবীণ নেতা সরকার কাঠামোর বাইরে রয়েছেন।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় অধিকাংশ আলোচিত নেতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পরে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়। তবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে দলটি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ দুবার এ দায়িত্ব পালন করা যায়। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনা সরকারের সময় দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

তবে গত বছরের অক্টোবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের পর দায়িত্ব থেকে সরে যেতে আগ্রহী। সেখানে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি নিজেকে ‘অপমানিত’ মনে করছেন এবং সুযোগ পেলে পদ ছাড়তে চান।




  বিষয়:   রাষ্ট্রপতি  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ 



Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy