
X
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু করেছে পৌর প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ২১ জন ট্রাফিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময় রাজধানী ও শিল্পাঞ্চল থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। এতে করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে যানজট কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা এবং ব্যস্ত সড়ক মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।
চৌদ্দগ্রাম পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় চৌদ্দগ্রাম বাজারসহ আশপাশের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যেই ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের মাঠে নামানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৌর প্রশাসন চায় মানুষ যেন স্বস্তিতে ও নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। এজন্য প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইয়াছিন আরাফাত জানান, ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ঈদ ছুটি শুরু হলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও পৌর প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এদিকে ঘরমুখো যাত্রীদের অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। চৌদ্দগ্রাম হায়দার মার্কেট বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ যাত্রী মো. জুনায়েদ বলেন, ঈদের সময় ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী বাসগুলো চৌদ্দগ্রাম এলাকায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে করা গেলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক সুমাইয়া আক্তার বলেন, সারা বছর কাজ করার পর ঈদের সময় পরিবার নিয়ে গ্রামে যাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। কিন্তু দীর্ঘ যানজটে পড়ে অনেক সময় কষ্ট হয়। সড়ক ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আমরা দ্রুত বাড়ি পৌঁছাতে পারব।
আরেক যাত্রী শিউলি আক্তার বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে দূরের পথে যাত্রা করতে হয়। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে খুব কষ্ট হয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে যাত্রীদের জন্য অনেক স্বস্তি আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, প্রশাসন, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চৌদ্দগ্রাম এলাকায় যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এতে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে নজরদারি জোরদার করা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাড়ানো এবং চালক ও যাত্রীদের সচেতন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় যানজট কমিয়ে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।