প্রকাশ: রোববার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম (ভিজিট : ২৫১)

X
চিতলমারীতে সূর্যমুখি চাষে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা
মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ। দৃষ্টি নন্দন সূর্যমুখি নজর কাড়ছে সকলের। এসকল ফুলের উপর মৌমাছি আর পাখিদের মেলা বসেছে। বিকেল নামলেই এলাকার কিশোর-কিশোরী ও অন্যরা ফুলের মাঠে ছবি তুলতে ছুটে আসছে। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলের মাঠের জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে সূর্যমুখি।
কৃষি প্রধান এ এলাকায় ধান, গম ও নানা প্রকার সবজি চাষের পাশাপাশি সূর্যমুখি চাষের মাধ্যমে বিশুদ্ধ তেল উৎপাদনে ভূমিকা রাখছেন চাষিরা। এছাড়া সূর্যমুখি তেলের ব্যাপক চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় চাষিরা এর মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন। ফলে এটি চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। উপজেলার বলেশ্বর নদীর চর ও আশপাশের এলাকায় বাড়ছে এ ফুলের চাষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে , উপজেলার শিবপুর ও চরবানিয়ারী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর চরের জমিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলের জমি ও চিংড়ি ঘেড়ের পাড়ে সূর্যমুখি চাষ হয়েছে। দৃষ্টি নন্দন সূর্যমুখি নজর কাড়ছে সকলের। উচ্চফলনশীল জাতের এ ফুল আকারে যেমন দেখতে তেমনি এর বীজ থেকে আশানুরূপ তেল পাওয়া যায় বলে চাষিদের অভিমত। এছাড়া এসকল ফুলে এখন মৌমাছিদের ব্যাপক আনাগোনা থাকায় এখান থেকে মধু আহরণ করা সম্ভব বলেও জানান অনেকে। পাশাপশি একদিকে সূর্যমুখির বীজ থেকে তেল তৈরির পাশাপাশি এর গাছ থেকে জ্বালানি কাঠের যোগান হচ্ছে। এসব সুবিধার কারণে চাষিরা এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলার শিবপুর গ্রামের সূর্যমুখি চাষি জালাল শেখ জানান, তিনি ৮ কাঠা জমিতে সূর্যমুখি চাষ করেছেন। এছাড়া তার প্রতিবেশি আরিফ শেখ ৫ কাঠা, আছাদ শেখ ৮ কাঠা বাইজিদ সরদার ১০ কাঠাসহ ওই এলাকার অনেক চাষি এটি চাষ করেছেন। ধান, গম ও সবজি চাষের চেয়ে সূর্যমুখি চাষ করা অনেকটা সহজলভ্য। কারণ এতে কোন সেচ লাগে না। সার, কীটনাশক ব্যবহারেরও তেমন প্রয়োজন পড়ে না।
বিগত কয়েক বছর ধরে তারা ফসলের জমিতে সূর্যমুখি আবাদ করে আসছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফসল তুলতে পারবেন বলে আশাবাদি এসকল চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত আল মারুফ জানান, এ বছর ৩৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখি চাষ করা হয়েছে। এটি চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে সার, বীজসহ নানা প্রকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এটি চাষের প্রতি চাষিরা যাতে বেশি আগ্রহী হয় সেজন্য পরামর্শ ও সব প্রকার সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া তিনি আরো জানান, সূর্যমুখি একটি লাভজনক ফসল। এর তেল প্রতি লিটার কম করে হলেও ৪ শ, থেকে ৫ শ, টাকা লিটার বিক্রি করা হয়। এবং গুণগতভাবে এ তেল স্বাস্থ্যসম্মত।